দেশে চলছে ভানুমতির খেল

দেশে চলছে ভানুমতির খেল

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, এখন দেশে ভানুমতির খেল চলছে। তারা নানা তেলেসমাতি দেখানোর চেষ্টা করছে। চেষ্টা করছে জনগণকে ধোকা দেয়ার।

রোববার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দুর্নীতিবাজরা গণভবনে আসতে পারবে না’-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, ‘এই কথাটি জনমনে হাসি-তামাশার উদ্রেক করেছে। কারণ কে কাকে দুর্নীতিবাজ বলছে? অপ্রিয় হলেও সত্য, খোদ গণভবনই এখন দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে।’

তিনি বলেন, ‘গণভবন যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে থাকে তাহলেই কেবলমাত্র দুর্নীতিবাজদের কবল থেকে গণভবন মুক্ত হবে এবং সারাদেশের দুর্নীতিবাজরা জবাবদিহিতার আওতায় আসবে।’

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “নিশি রাতের সরকারের সঙ্গী রাশেদ খান মেনন যেকোনো কারণেই হোক, এবার নিজের মুখে মহাসত্যটি স্বীকার করেছেন, ‘২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর কোনো নির্বাচন হয়নি।’ অবশেষে সত্য কথাটা অকপটে জনগণের সামনে স্বীকার করতে হলো মেনন সাহেবকে। বিবেকের তাড়নায় মেনন সাহেব যে সত্যকথাগুলো বলতে শুরু করেছেন, হয়তো কয়েকদিন পর ওবায়দুল কাদের এবং হাসান মাহমুদরাও বলবেন। আর এই কথাগুলো যতই তাদের কাছ থেকে বেরিয়ে আসবে ততই বন্ধক রাখা আত্মা মুক্ত হবে।”

বিএনপির সিনিয়র এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “এটা প্রমাণিত গত এক দশকে গণভবনের উৎসাহ ও প্রণোদনায় চলেছে ‘শিষ্টের দমন দুষ্টের লালন’। সুতরাং বর্তমানে আসল সমস্যা গণভবনে। এখন দেশকে বাঁচাতে হলে, জনগণকে বাঁচাতে হলে দেশে দুর্নীতিবাজদের লালনকারী নেপথ্য রাজা-বাদশাহ-আমির-ওমরাদের পতন ঘটাতে হবে। গণভবনকে দুর্নীতিবাজদের দখলমুক্ত করে জনগণের গণভবন জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেয়া এখন সময়ের দাবি।”

রিজভী আরও বলেন, ‘দেশ চলছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে। যারা অপরাধী রাজদণ্ড তাদের হাতে। আর নিরপরাধ থাকেন কারাগারে। গণতন্ত্র ও দেশের পক্ষে কথা বলার কারণেই আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে। শেখ হাসিনার পলিটিক্যাল মনোপলি নীতির কারণেই নিহত সংবিধান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও স্বচ্ছ নির্বাচন। কিন্তু সত্যের ঢোল বাতাসে বাজে, অপকর্ম করেও কখনও কখনও বিবেকের তাড়নায় সত্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয় মানুষ, বিবেকবান মানুষের মনে অপরাধবোধ অস্থিরতা সৃষ্টি করে। দুর্নীতিবাজ সরকারের বিশ্বস্ত কমরেড রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য কী তা আমাদের জানা নেই, তবে জাতির সামনে রাজসাক্ষী হয়ে রাতের ভোটের ভোট ডাকাতির স্বীকারোক্তি প্রদানের মাধ্যমে নিজের দায় ও অপরাধ তিনি স্বীকার করে নিলেন।’

রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ‘এই বক্তব্যের পর নৈতিকতা ও বাস্তবতার দিক দিয়ে সরকারের উচিত সংসদ ভেঙে দেয়া। সংসদে বহাল থাকার নৈতিক অধিকার তাদের নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নন। তাই বর্তমান সরকারের যদি বিন্দুমাত্র লজ্জা থাকে, তাহলে আজকেই তাদের পদত্যাগ করে সরে যাওয়া উচিত।’