দেবীগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ফসল ও গাছপালা

দেবীগঞ্জে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে ফসল ও গাছপালা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষকসহ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখনও ক্ষতিপুরণ পাননি। আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে তারা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বিষাক্ত ধোঁয়ায় ওই কৃষক ও লোকজনের কয়েকশ’ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পুড়ে গেছে আম, কাঁঠাল, জলপাই গাছ ও বাঁশঝাড়। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এলাকার কেএসবি নামের একটি ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এ ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বোরো ধান, বাদাম, ভুট্টাসহ অন্যান্য ক্ষেত খামার পুড়ে গেছে। ধোঁয়া বন্ধ হলেও বিষাক্ত রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় এখনও নতুন ফসলের ক্ষেতসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল রাতে এ বছরের জন্য কেএসবি ভাটায় ইট তৈরি বন্ধ করতে কার্যক্রম চলছিল। বন্ধ করার সময় হঠাৎ ভাটার চিমনি দিয়ে বিষাক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত ধোঁয়া বের হতে থাকে। রাতে ক্ষয়ক্ষতি বোঝা না গেলেও সকালে কৃষকরা দেখতে পান তাদের ক্ষেত খামার ও রাস্তায় লাগনো গাছপালার পাতা কুঁকড়ে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে তারা লক্ষ্য করেন ফসলের ক্ষেত পুড়ে যাবার মতো হয়ে যাচ্ছে। গাছপালার পাতা ও ফল ঝরে পড়ছে। এই বিষাক্ত ধোঁয়ায় শিমুলতলি, নয়নপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

নয়নপাড়া গ্রামের বাসন্তি রানী (৪০) জানান, তার বাড়ির চারপাশে আম কাঁঠালের গাছের পাতা কুঁকড়ে গেছে। ফলগুলো ঝরে পড়ছে। শ্রমিক ফনিভূষন চন্দ্র রায় (৫২) বলেন, তার ২ বিঘা জমির ধান পুড়ে গেছে। জমি বন্ধক নিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ করে ওই জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন। তিনি ক্ষতি পুরণের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি কষ্ট করে টাকা জমিয়ে এই জমিটুকু বন্ধক নিয়ে ধান আবাদ করেছি। আমার পুঁজি শেষ। ক্ষতিপুরণের টাকা না পেলে আমি পথে বসে যাব। দন্ডপাল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত ৪০ জন কৃষকের প্রায় দেড়শ’ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাটা মালিকের সাথে ক্ষতিপুরণের ব্যাপারে আলাপ আলোচনা চলছে।

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া চলছে কেএসবি ভাটার ইট তৈরির কার্যক্রম। বন্ধের সময় বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গমন হতে পারে এ সমন্ধে কোন ধারনাও ছিল না ভাটা কর্তৃপক্ষের। ভাটার মালিক জুয়েল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে কেএসবি ভাটার ম্যানেজার শামসুল হক বলেন, ২২ বছর ধরে ইট তৈরি করছেন তারা। এরকম ঘটনা এই প্রথম। কৃষি সম্প্রসারণের পক্ষ থেকে পুড়ে যাওয়া ফসলে সাদাপানি ও ছত্রাক নাশক ওষুধ স্প্রে করার পাশাপাশি সংক্রামক রাসায়নিক গ্যাস যাতে অন্যান্য ফসলের ক্ষতি করতে না পারে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছে। এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শামীম ইকবাল বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করার পাশাপাশি আর যাতে ক্ষতি না হয় সে জন্য নানা পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।