দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি প্রয়োজন

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি প্রয়োজন

মোহাম্মদ নজাবত আলী : বাঙালি জাতির অতীত গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। সে ঐতিহ্য সাহস ও সংগ্রামের। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও জাতি হিসাবে বাঙালি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। অদম্য সাহসী এদেশের মানুষ। প্রতিনিয়ত তারা ঝড় ঝঞ্ঝা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও টিকে আছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝেও বাঙালির মনোবল কখনো দুর্বল হয়নি। দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন বাঙালি জাতি সব সময় এগিয়ে চলেছে সামনের দিকে। কোনো কিছুতেই তারা হার মানতে জানে না। সাময়িকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও দ্রুতগতিতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম বাঙালি জাতি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ রোল মডেল। অতি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র  আন্তর্জাতিক দূর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৯ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিনির্বাপণের মতো দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি যাতে হ্রাস পায় সে জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার ইতিমধ্যেই তা নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে এখন আমরা শুধু উন্নয়নের রোল মডেল নই প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল সে সম্মান পেয়েছে। অনুষ্ঠানে নবনির্মিত ১০০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এবং ১১৬০৪টি দুর্যোগকালিন বাড়ী উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।  উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জান-মাল রক্ষায় ১৭২টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে ৫৬ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তাছাড়াও ৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, ২৪ লক্ষ আনসার ভিডিপি, ১৭ লক্ষ স্কাউট, ৪ লক্ষ বিএনসিসি, গার্লস গাইডের প্রায় ৪লক্ষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য রয়েছে। যেকোনো দূর্যোগ মোকাবিলায় তারা সদাপ্রস্তুত। তাছাড়াও সমূদ্র উপকূলের ৩৮৬৮টি বহুমূখী সাইক্লোন সেন্টার বর্তমান সরকার নির্মাণ করেন। আরো ১৬৫৪টি নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে।    
প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হয়। কারণ ভৌগলিকগত অবস্থানের ওপর যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় অনেকাংশে নির্ভরশীল। কখনও বন্যা, ঝড়, ঝঞ্ঝা টর্নেডো সাইক্লোন নদী ভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, কৃষি আবাদি জমি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এমনিভাবে নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ দেশবাসির সাজানো সংসার মুহূর্তের জন্য তছনছ করে ফেলে দিলেও অদম্য সাহসী এ দেশবাসী কখনো ভেঙে পড়েনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাময়িকভাবে এদেশের মানুষকে বিপর্যস্ত করলেও দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন মানুষগুলো আবারও জীবন সংগ্রামে নেমে দুর্যোগের ভয়াবহতা কাটিয়ে ওঠে। জলবায়ুর পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু আর্থিক দিক থেকেই বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়না, শিশুরাও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।
তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বন্যা খরার ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। এ সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমাদের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অতিবর্ষা, নদী ভাঙন এবং দেশের উপকুলবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে সামদ্রিক ঘুর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস। তবে নদী ভাঙনরোধ কল্পে এবং বন্যা প্রতিরোধে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। উপকূলবর্তী অঞ্চলের মানুষগুলোকে ঘূর্ণিঝড়ের র্প্বূাভাস আগেই সরাসরি বেসরকারিভাবে রেডিও, টিভি সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। ফলে ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং দুর্যোগ পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে আর্থিক সাহয্য সহযোগিতা করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। উপকুলীয় ঘূর্ণিঝড়ে পূর্বাসন প্রকল্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতার জন্য সরকারের একটি বিশেষ মন্ত্রণালয় রয়েছে যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রাণালয় নামে পরিচিত। আর্থিক সাহায্য ছাড়াও উপকুলবর্তী অঞ্চলে আশ্রয়ন প্রকল্প খোলা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ শুধু কথায় বাস্তব যে, নদীর একপাড় ভাঙে অন্য পাড় গড়ে ওঠে। জলোস্রোত যেমন ধরে রাখা যায় না ঠিক তেমনি নদীর বহমান ধারাও। এপাড় ভেঙ্গে ওপার গড়া। নদীর এ ভাঙা গড়া খেলা নিয়ে মরমী শিল্পী আব্দুল আলীম এর মতো অনেক শিল্পী দরদ ভরা কণ্ঠে অনেক গানও গেয়েছেন। নদীর এ ভাঙনের খেলা মানুষের জীবনকে স্থবির করে দেয়। বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে প্রতিবছর এদেশের প্রচুর সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এদেশের বহু মানুষ ঘর-বাড়ি বসত ভিটা, ধন-সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, সাইক্লোন, সিডর, ঘুর্নিঝড় এ সবই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের কোনো হাত নেই। কিন্তু সতর্কতা বলে একটি কথা আছে। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাসের আগাম খবর পাওয়া আজকের বিজ্ঞানের যুগে কঠিন নয়। তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি অভিশাপ। তবে এ বিপর্যয় থেকে কিভাবে রক্ষা পাওয়া যায় কিভাবে জানমালের ক্ষতি কমানো যায় এ ব্যাপারে সারা বিশ্বে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এ প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে আগাম সতর্কবার্তা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রশমন, দুর্যোগ পরবর্তি সময়ে পুনর্বাসন, পুনর্গঠন (আশ্রয়ন প্রকল্প) দুর্যোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে দুর্যোগ কমানোর লক্ষ্যে সামাজিক বনায়ন ইতিমধ্যে সরকার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তবে একদিকে দেশবাসির অদম্য সাহস, অন্য দিকে সরকারি -বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের উদ্যোগ প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণকে আরও সাহস যুগিয়েছে।
সুতরাং বন্যা, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প এ সবই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়ে। এ সব প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত বেশ কয়েকবার প্রচন্ড বন্যায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। বিশেষ করে সত্তর সালে ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিগত শতাব্দিতে ১৯৭৪ এবং ১৯৮৭ সালে বন্যায় দেশের জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয় ১৯৮৮সালে। প্রাকৃতিক এ বিপর্যয়ে দেশের ঘর-বাড়ি, কৃষি জমির ফসল সহ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। উপরোন্ত বন্যার পাশাপাশি সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়ে সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায় মানুষের জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। আর এ সমস্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিভিন্ন নামও রয়েছে। কখনও সাইক্লোন, কখনও হেরিকেন, কখনও ক্যাটরিনা, কখনও সিডর, কখনও নার্গিস, কখনও আইলা আবার কখনো রোয়ানু নামে প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ে আঘাত হানে বাংলাদেশে। সুতরাং বলতে কোনো দ্বিধা নেই যে, বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। তবে এ দুর্যোগ সাধারণত দুধরনের মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, সভ্যতার উচ্চ শিখরে আরোহন করেও শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পাহাড় কাটা, নদীর তীরের মাটি খনন, বন উজাড় করা ইত্যাদি। প্রতি বছর পাহাড় ধসে বহু মানুষ মারা যায়। নদীর পাড় কাটার কারণে বন্যায় নদী ভাঙনে মানুষের ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। বন উজাড় করার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জনজীবনে। তবে বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, সিডর, আইলা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই এদেশের মানুষকে বেঁচে থাকতে হয়। প্রায় ফি বছর ছোট বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্ট নেমে আসে এদশের সমুদ্র উপকুলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেন দেশবাসির নিত্যসঙ্গী। সড়ক দুর্ঘটনার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের পিছু ছাড়ছে না। প্রতিটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এদেশের মানুষ চরম ধৈর্য্য ও সাহস নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর  মানুষের হাত না থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন করলে জান-মাল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা বেড়েছে। নিকট অতীতে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়। সরকারের আগাম সতর্কবার্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা জোরদার করায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমালের ক্ষতির পরিমাণ কম। সরকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের মানুষের দৃঢ় মনোবল ও অদম্য সাহস আত্মবিশ্বাস বাড়লেও প্রতিবছর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সব সময় একটি আতংকের মধ্যে থাকতে হয় যা অনেকটা কমেছে। এ অঞ্চলের মানুষগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা কল্পে সরকারকে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। উপকুলীয় অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় খুব বেশি প্রবল হয় না। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে প্রাণহানি রোধ করা অনেকটা সম্ভব বলে মনে করে বিশ্লেষকরা। তাছাড়া সচেতনতা বাড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক প্রাণহানি এড়াতে উপকুলীয় এলাকায় আবহাওয়াবার্তা আধুনিকায়নের পাশাপাশি সমূদ্র উপকূলের ৩৮৬৮টি বহুমূখী সাইক্লোন সেন্টার বর্তমান সরকার নির্মাণ করেন।
যুদ্ধ মানে ধ্বংস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই ক্ষতি। আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে যেমন সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রয়োজন আগাম সতর্কবার্তা, সরকারের গৃহিত বাস্তবমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপ। দুর্যোগের কারণে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরসন সহ দুর্যোগ পরবর্তী সময় জাতীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারে স্বনির্ভরতা অর্জন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। উপরোন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে জনগণের জানমাল রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা কল্পে আগাম সতর্ক বার্তা ব্যবস্থাকে সরকার আরও জোরদার করবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই ভয়াবহ ক্ষতি। ১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড় গোর্কির আঘাতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৯৯১ সালের ২৩ এপ্রিল ভয়াবহ ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সাম্প্রতিক অতীতের সিডর আইলার রোয়ানোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সতর্কতা ও পূর্ব প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। নদী ভাঙন, বন্যা, ঝড়, পাহার ধস এক কথায় মনুষ্যসৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি আমাদের স্মরণ করে দেয় দুর্যোগের ভয়াবহতা। কিন্তু এত ক্ষয়ক্ষতির মাঝেও এদেশবাসী ঘুরে দাঁড়িয়েছে সব সময়। অদম্য সাহসী এ দেশবাসী ভেঙে পড়েনি। বুকে সাহস নিয়ে জীবন-সংগ্রামে টিকে রয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতও তারা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর মানুষের কোন হাত নেই। তবুও আগাম প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি সরকার গ্রহণ করবে। আমরা আশা করব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করায় সাধারণ জনগণের জানমাল যেমন রক্ষা পাবে তেমনি আগামী দিনের ভবিষ্যৎ যেসব শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে হুমকির মুখে রয়েছে, তা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।  
লেখক ঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট
০১৭১৯-৫৩৬২৩১