দুর্নীতির অপর নাম কালো টাকা

দুর্নীতির অপর নাম কালো টাকা

এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আরও অবারিত রয়েছে। শিল্পখাতে ১০ শতাংশ কর দিয়ে এসব খাতে যে কোনো অংকের টাকা বিনিয়োগ করা হলে, বিনিয়োগকারীর আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না জাতীয় রাজস্ব (এনবিআর)। ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ সুযোগ দেওয়া হবে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়। কালো টাকা সাদা করার বিষয়টি দুর্নীতির আওতায় পড়ে। কেউ কালো টাকা অর্জন করবে এবং পরে তা সাদা করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত উদ্যোগ, এত কথা বলা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রয়োজন রয়েছে কি? অর্থনীতির সংজ্ঞায় খারাপ অর্থ যেমন ভাল অর্থকে দূরে সরিয়ে ফেলে তেমনি কালো অর্থও বাজেটের লক্ষ্য অর্জনকে ব্যাহত করে। বাংলাদেশে সব সরকারই কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দেয়ার জন্য সব সময়ই অতি আগ্রহী। জানা গেছে, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে বার বার এই সুযোগ দেয়া হলেও কালো টাকা সাদা হয়েছে খুব সামান্যই। কালো টাকার বড় অংশই থেকে গেছে অপ্রদর্শিত অবস্থায়। দেশবাসী চায় কালো টাকা সাদা করা নয় বরং কালো টাকার উৎস বন্ধ করাই হোক সরকারের মূল কাজ। দুর্নীতির মাধ্যমেই কালো টাকা অর্জিত হয়- তাই যারা দুর্নীতি করে কালো টাকা আয় করে- তাদের দুর্নীতির দায়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। বড় দুর্নীতিবাজরা ছাড় পাবে আর ছোট ছোট দুর্নীতিবাজরা বিচারের সম্মুখিন হবে- এক দেশে আইনের প্রয়োগ দুই ধরনের হবে কেন?