দুপচাঁচিয়ার শুকিয়ে যাওয়া নাগর নদের বুকে সবুজের সমারোহ

দুপচাঁচিয়ার শুকিয়ে যাওয়া নাগর নদের বুকে সবুজের সমারোহ

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া দুপচাঁচিয়া উপজেলার কোল ঘেঁষে বয়ে যাওয়া স্রোতস্বিনী নাগর নদ এখন প্রায় মৃত নদে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে থেকে আশির দশক পর্যন্ত এ নদ ছিল জৌলুসে পরিপূর্ণ। সে সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌপথে উপজেলা সদর বন্দর, তিনমাথাসহ অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা তালোড়ায় ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের মালামাল আনা-নেয়া করতো। বর্ষাকালে পানিতে টইটুম্বর এ নদে পাল তোলা নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযান যাতায়াত করতে দেখা গেছে। এছাড়া জলজ প্রাণী শুশুকের ডিগবাজি দেখতে এলাকার শিশু-কিশোর ও বয়োবৃদ্ধরা নদের কিনারে ভীড় জমাতো। কিন্তু বর্তমানে নাব্যহীনতা ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে নাগর নদে শুষ্ক মৌসুমে আর পানি থাকে না। আর এ সুযোগে নদ কিনারে অবস্থিত প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রামের লোকজন নদের বুকেই ইরি-বোরো ধানের বীজ তলা, ধান চাষসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী শাক সবজি ও রবি শস্যের চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ চিত্র দেখে সেই স্রোতস্বিনী নাগর নদের কথা কল্পনাও করা যায় না।

এ ব্যাপারে উপজেলার বন্দর নগর তিনমাথার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক, আতাউর রহমান সরদার বাবলা, প্রান্তোষ বসাক, শ্যামসুন্দর আগরওয়ালা ও তালোড়ার পরানপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আয়েন উদ্দিন, তালোড়া বাজারের আনোয়ারুল হক তালুকদার, মোজাফফর রহমান ঠান্ডা জানান, দুপচাঁচিয়া উপজেলার কোল ঘেঁষে প্রবাহিত এ নদ পথে বিভিন্নস্থান থেকে আসা প্রতিদিন শত শত নৌকা ও বেদে বহরের দল দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরসহ বন্দর নগর তালোড়ায় সে সময় ভীড় জমাতো। কিন্তু এখন নদে পানি শূন্যতার জন্য সেই চিত্র আর চোখে পড়ে না। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো স্রোত নেই। এর বুকে ও তীর ঘেঁষে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশও হচ্ছে হুমকির সম্মুখিন। পানি শূন্যতার জন্য নদের তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা আর আগের মতো তাদের ক্ষেতে সেচ কাজেও পানি দিতে পারছে না। তবে এলাকাবাসী মনে করেন খনন করে নাব্যতা বাড়ালে কিছুটা হলেও শুস্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং এলাকার চাষাবাদেও কৃষকরা উপকৃত হবে।