দুদক হচ্ছে রাতকানা বাদুড়ের মতো : রিজভী

দুদক হচ্ছে রাতকানা বাদুড়ের মতো : রিজভী

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজস্ব প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এটি হচ্ছে রাতকানা বাদুড়ের মতো। বিরোধী দল এবং বিরোধী দলের প্রধান নেত্রীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা, নানাভাবে নির্দয়-নিপীড়ন করার একটা যন্ত্র হচ্ছে দুদক। এই বিশেষণ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা মন্ত্রিত্ব করছেন, লুট হচ্ছে সারা দেশের রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি। তখন তার (দুদক) চোখ কানা হয়ে থাকে। রাতকানা বাদুড় এজন্যই বলেছি।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে উচ্চ আদালতে দুদকের আপিল আবেদনের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।  বুধবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। হাইকোর্টের দেওয়া খালেদা জিয়ার চার মাসের জামিন নিয়ে সরকার ছিনিমিনি খেলছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা রাজনৈতিক, নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা রাজনৈতিক ও  জামিন স্থগিতের আদেশও রাজনৈতিক। সারা দেশের জনগণ বিশ্বাস করে সব কিছুই করা হচ্ছে হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং সবচাইতে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে। রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সরকার যেন মুক্তিপণ আদায় করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে এক ধুলি-ধূসরিত স্যাঁত-স্যাঁতে পরিত্যক্ত কারাগারে আটকিয়ে রেখেছেন একতরফা নির্বাচন বিপদমুক্ত করতে। বিএনপি চেয়ারপারসনকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই সরকার এক নির্দয় ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার ওপর চাপ প্রয়োগের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

অর্থাৎ আপনি নির্বাচন করতে পারবেন না, আমি একতরফা নির্বাচন করব- এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে। যতদিন আপনি মেনে না নেবেন, ততদিন আপনি কারাগারে থাকবেন। তিনি আরো বলেন- এই যে চক্রান্ত, যে প্রক্রিয়ায় তাকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে- এটাতে মনে হচ্ছে যে, সরকার মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টায় লিপ্ত আছে। আমরা বলতে চাই, বেগম জিয়ার ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে লাভ হবে না। আগামী নির্বাচন দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে এবং বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মৎস্যজীবী দলের আরিফুর রহমান তুষার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।