দুই সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মেরে ফেললেন স্বামী

দুই সন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মেরে ফেললেন স্বামী

রংপুরে দুই শিশুসন্তানসহ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর ২৫ নং ওয়ার্ডের কামালকাছনা বীরভদ্র এলাকা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধারসহ স্বামী আব্দুর রাজ্জাককে (৩৮) আটক করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী আসফিয়া আক্তার রত্না (৩২) এবং মেয়ে নেহা (৩) ও ছেলে নিশাত (১)।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর আগে কামালকাছনা বীরভদ্র ও বাহারকাছনা সীমান্তবর্তী হাতীভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় জমি কিনে বসবাস শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক। রোববার বেলা ১১টার দিকে প্রতিবেশী এক নারী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর দুই শিশুসন্তানসহ গৃহবধূ রত্নার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি আব্দুর রাজ্জাকের হাতে ও গলায় রক্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে অন্যরা ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিসহ আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে।

নিহত রত্নার ভাই এসএম আব্দুর রশীদ বলেন, তার বোনের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মাদকাসক্ত। গত ছয় মাস আগে অটোরিকশা কেনার জন্য টাকা দাবি করলে তাকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়। এছাড়া টাকার জন্য তার বোনকে প্রায়ই মারধর করতো রাজ্জাক। শনিবার রাতে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রত্নাসহ দুই শিশুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রাজ্জাকের মা ও বোন জড়িত থাকতে পারে দাবি করে তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তসহ ন্যায়বিচার দাবি করেন।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান বলেন, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ দুই শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘাতক আব্দুর রাজ্জাক নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদসহ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।