দারিদ্র বিমোচন

দারিদ্র বিমোচন

দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও এখনো মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। আর এ জন্য প্রয়োজন সঠিক নীতি নির্ধারণ ও জোরালো বাস্তবায়ন। দারিদ্র হ্রাসে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্জিত গতিশীলতা ও হতদরিদ্রদের জন্য টেকসই নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও টেস্ট রিলিফ, জিআর ছাড়াও সরকারের নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের মহাসড়কে উপনীত হওয়ার এবং একটা মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার আশা রাখে। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে অতি দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে হবে।

প্রবৃদ্ধির বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ হবে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে গড়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানার আয় ও ব্যয় নির্ধারণ জরিপ ২০১৬তে এ চিত্র পাওয়া গেছে। দেশের মোট আয়ের ৩৮শতাংশই করেন উপরের দিকে থাকা ১০ শতাংশ ধনী। গরিবদের আয় বৃদ্ধির সুযোগ কমে গেছে। ধনীদের তা বেড়েছে। অক্সফাম বলছে বৈষম্যের কারণে দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। এটি সামাজিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও গ্লানিকর। জরুরি বিষয় হচ্ছে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে দেশকে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।