দারিদ্র বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

দারিদ্র বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

আব্দুল হাই রঞ্জু:২০০০ সালে জাতিসংঘ ২১টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয়। ২১টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল অন্যতম। যেমন ক্ষুধা ও দারিদ্র দূরীকরণ, সার্বজনীন শিক্ষার প্রসার, জেন্ডার সমতা অর্জন, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস, এইচআইভি, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য রোগ প্রশমন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রদান ছিল অন্যতম। উল্লেখিত শর্তগুলোর মধ্যে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বেশ সাফল্য অর্জন করেছে। আর ম্যালেরিয়ার প্রকোপ অনেক আগেই বলতে গেলে প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এইচআইভির প্রকোপ বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। এ সকল কারণে এমডিজিতে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে দারিদ্র বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটির অগ্রগতি খুব বেশি দূর পর্যন্ত যেতে পারেনি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র। এর মধ্যে ২ কোটি মানুষ হতদরিদ্র। ১৬ কোটির জনসংখ্যার দেশে ৪ কোটি মানুষ যেখানে দরিদ্র, সেখানে এ খাতটি যে এখনও বড় ধরনের একটি সমস্যা, যা স্বীকার করতেই হবে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বশেষ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার মধ্যে বাস করছিল। সংখ্যার হিসাবে যা ছিল ৫ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ হতদরিদ্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্রসীমার মধ্যেই ছিল। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া তথ্যমতে দেখা যায়, ইতিমধ্যেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমে ৪ কোটিতে নেমে এসেছে। বলতে হবে এটাও বড় মাপের অর্জন। কারণ এমন এক সময় ছিল যখন এ দেশের শ্রমজীবি মানুষের কর্মক্ষেত্র ছিল খুবই সীমিত। সময়ের ব্যবধানে সে ধারার কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন কলকারখানার শ্রমিক, কৃষি শ্রমিকের সংকট চোখে পড়ার মতো। এখন দেশ থেকে প্রতিবছরই বিদেশে নারী পুরুষ কর্মি যাওয়ার সংখ্যা উত্তর উত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দক্ষ জনগোষ্ঠীর সংকট এখনও তীব্র। ফলে বিদেশে যাওয়ার পর দক্ষতার অভাবে স্বল্প মজুরিতে অনেককেই কাজ করতে বাধ্য হতে হয়। বাস্তব এ অবস্থার নিরীখে সরকারও কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। যদি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তাহলে প্রবাসী রেমিট্যান্সের পরিমাণ যেমন একদিকে বেড়ে যাবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিও মজবুত হবে। বড় সমস্যা হচ্ছে, সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতির প্রকোপ দেশে এখনও প্রবল। ফলে ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান কমার বদলে শুধুই বাড়ছে। দুর্নীতি, লুটপাট ধনী দরিদ্রের ব্যবধানকে তরান্বিত করে, যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি) এর গত ২০০৮ সালের এক জরিপে বেরিয়ে এসেছে, বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৫৩ লাখ। বিশ্বব্যাপী খাদ্য পণ্যের উচ্চমূলের কারণে বাংলাদেশের ৭৫ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে নেমে এসেছে। সংস্থা দু’টির মতে, দেশের ৬০ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ ব্যয় করেন খাদ্যদ্রব্য কিনতে। এ হিসাবে দেশের ৫৭ শতাংশ মানুষ তিন বেলা খেতে পারলেও ৩৭ শতাংশ মানুষ দুবেলা খান, ৩ শতাংশ মানুষ দিনে ১ বেলা খান এবং ১ শতাংশ মানুষ খেতেই পান না। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, খাদ্যদ্রব্যের উচ্চ মূল্যের কারণে বাংলাদেশে দারিদ্রের হার একদিকে ৫ শতাংশ করে কমছে, আবার নতুন করে ৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিয়ে গবেষণা করেছে দেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ও উন্নয়ন সমন্বয়’ পৃথক দুটি সংস্থা। সিপিডির হিসাব মতে, গত ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরে দেশের ২৫ লাখ পরিবার নতুন করে দরিদ্রসীমার নিচে নেমে গেছে। এই হিসাবে দরিদ্রসীমার হার ৪০ শতাংশ থেকে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অন্যদিকে ‘উন্নয়ন সমন্বয়ের’ হিসাব অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ে দরিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে সকল সংস্থার জরিপের মধ্যে অমিল থাকলেও দরিদ্রসীমার নিচে নেমে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি ও এর কারণ সম্পর্কে গবেষক ড. আবুল বারকাতের দৃষ্টিভঙ্গি যথার্থই। অধ্যাপক আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশ কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারে রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষনায় বলা হয়েছে, গত ১৯৮৪ থেকে ২০১৪ ইং পর্যন্ত ৩০ বছরে দেশে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬০ শতাংশ। কিন্তু এই ৩০ বছরে বিত্তহীনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৬ শতাংশ। আর দেশে এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণী ৫ কোটি ৭১ লাখ। যার মধ্যে ২ কোটি ৭১ লাখ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত, ১ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির এবং ৭৫ লাখ মানুষ উচ্চবিত্ত শ্রেণীর। এ প্রসঙ্গে ড.আবুল বারকাত বলেন, দরিদ্র মানুষ বাড়ার এই প্রবণতা জাতীয় উন্নয়নের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জোরের সাথেই বলেন, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এবং গরিব ও মধ্যবিত্তের স্বার্থবিরোধী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নির্ভর উন্নয়ন গতিধারার কারণে গত ৩০ বছরে নতুন করে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ দরিদ্রতার শিকার হয়েছে। উক্ত গবেষনায় দেখা গেছে, ১৯৬০ সালে এ দেশে ভূমিহীন খানার সংখ্যা ছিল মোট খানার ১৯ শতাংশ। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে ১৯৬০ সালে দেশে ১ শতাংশ ধনী ভূস্বামীর মালিকানায় ছিল মোট কৃষিজমির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। যা ২০০৮ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে।

 অর্থাৎ উল্লেখিত ৩০ বছরে মধ্যবিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির হাতে থাকা চাষের জমি জ্যামিতিক হারে কমেছে। বিপরীতে শিল্প কলকারখানার মালিক এবং রাজনীতিক ব্যবসায়ীদের হাতে চাষের জমির সিংহভাগ চলে গেছে। ফলে জমির মালিকরা নিম্নবিত্তে পরিণত হয়েছে। আর নিম্নবিত্ত শ্রেণী জমি জমা হারিয়ে ভূমিহীন হয়েছে। এখন যারা গ্রাম ছেড়ে নগর মহানগরে বস্তিবাসী হয়েছে। যাদের জীবিকা এখন পুরোপুরি শহর কেন্দ্রিক। শ্রম বিক্রিই যাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আর গুটিকতক মানুষ শ্রম শোষণ, লুটপাট, দুর্নীতি করে গড়ে তুলেছে টাকার পাহাড়। আবার সে অর্থ দেশে বিনিয়োগ না হয়ে দেদার পাচার হচ্ছে বিদেশে। ফলে দেশে কর্মসংস্থান যেমন সৃষ্টি হচ্ছে না, তেমনি কর্মহীন মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। কমিশন পরিকল্পনার সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ২০১৪ সাল পর্যন্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যে প্রতিবেদন দাঁড় করিয়েছে তাতে দেখা যায়, দেশে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৭ লাখ, যা মোট জনগোষ্ঠীর ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। অবশ্য জিইডি বিবিএসের ২০১০ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপ করে উল্লেখিত প্রতিবেদন তৈরি করেছে। উক্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে দারিদ্রের হার ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এমনকি উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের মেয়াদকালে দারিদ্রের হার ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২৬ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ উল্লেখিত সময়ে দারিদ্রের হার কেমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গবেষণায় অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা সকল জরিপের ক্ষেত্রে এক না হলেও এটুকু বলা যায়, দেশে এখনও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেকাংশেই বেশি। এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের তথ্য হচ্ছে, দেশে এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র। এর মধ্যে ২ কোটি হতদরিদ্র মানুষ। সংস্থাটি বলছে, গত ২০০৯-১০ অর্থবছর শেষে দেশে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ হতদরিদ্র মানুষ দরিদ্রসীমার ওপরে উঠে এলেও বাস্তবে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখনও অনেক বেশি।

অর্থাৎ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনার পাশাপাশি ধনী দরিদ্রের ব্যবধানকে কমিয়ে আনা সম্ভব না হলে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির সফল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। এজন্য বাংলাদেশে তিনটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজির বাস্তবায়নের কাজ চলছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে এমডিজি অর্জনে সরকার যে সব পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে, যা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রী পরিষদ বিভাগসহ ৪৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সরাসরি তদারকি করছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অধিকাংশ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় আগামী দিনগুলোয় ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ না থাকলেও শংকার বিষয় হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা খুব একটা ভাল না। ইতিমধ্যেই জিডিপিতে কৃষি ও প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহের অবদান পূর্বের চেয়ে কমেছে। জাতীয় আয় ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হলেও গ্রামের মানুষের আয় বাড়ছে ২ থেকে ৩ শতাংশ হারে। বিশষজ্ঞদের মতে, গ্রাম থেকে যে হারে টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে, সে হারে গ্রামে টাকা যাচ্ছে না। এমনকি শহরকেন্দ্রিক যে হারে উন্নয়ন হচ্ছে, সে হারে গ্রামের উন্নয়ন হচ্ছে না। এ জন্য সরকারকে গ্রামের মানুষের উন্নয়নে বেশি করে নজর দেওয়া জরুরি। যেমন-পল্লী ঋণ ও রেমিট্যান্স গ্রামের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব খাতে ভাটা পড়ছে। বিশেষ করে ব্যাংকগুলো গ্রাম থেকে ঋণের অর্থ তুলে নিচ্ছে কিন্তু পুনঃঅর্থায়ন সে হারে করা হচ্ছে না। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি সংকটের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় আয় ছিল ১ হাজার ৪৬৫ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এই পরিমাণ ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৬৫ টাকা, কিন্তু গ্রামের মানুষের মাথাপিছু আয় এর অর্ধেক। গ্রামের আর্থিক ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ব্রাকের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, গ্রামের মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার অনেক কম। যেমন গ্রামঞ্চলের অকৃষিখাতে ঋণ বিতরণ আশংকাজনক হারে কমেছে। এমনকি ঋণ বিতরণ কমলেও আদায় বেড়েছে। ফলে গ্রামীন অর্থনীতিতে এক ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে। অথচ গ্রামভিত্তিক কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করা সম্ভব না হলে এর নেতিবাচক প্রবাহে কৃষি চাষাবাদ, ক্ষুদ্র ব্যবসায় মন্দাভাব তীব্র হবে। যা আমাদের গোটা অর্থনীতির জন্য কোনভাবেই মঙ্গলজনক হবে না।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রাম্য মানুষের আর্থিক সংকট এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসায় মন্দার কারণে কৃষি উৎপাদিত পণ্যের বাজারও গ্রামে কমেছে। আবার যে পণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ধরে শহরে পৌঁছে দ্বিগুণ হচ্ছে। লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা, আর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের সাধারণ চাষীরা। এ জন্য গ্রাম পর্যায়ে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। দেখা যায়, গ্রাম থেকে ঋণ আদায় করে তা শহরকেন্দ্রিক বিনিয়োগ করা হচ্ছে। যা টেকসই গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য কোন ভাবেই সহায়ক নয়। এমতাবস্থায় সরকারকে বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হবে। তা না হলে দারিদ্র বিমোচন রোধ, কৃষি চাষাবাদ এবং গ্রামভিত্তিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসাকে গতিশীল করা সম্ভব হবে না। যা এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক
০১৯২২৬৯৮৮২৮