দাম কমেছে পেঁয়াজের সবজিতে ঊর্ধ্বগতি

দাম কমেছে পেঁয়াজের সবজিতে ঊর্ধ্বগতি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর কাঁচা বাজারে দাম কমছে পেয়াজের। দুই’শ-দেড়’শর পরিবর্তে দাম এখন এসে ঠেকেছে ১০০ তে। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে পেঁয়াজের দাম কমলেও সন্তোষজনক অবস্থায় নেই সবজির মূল্য। ভরপুর সরবরাহ থাকলেও প্রতিসপ্তাহেই দাম বাড়ছে বেশিরভাগ শীতের সবজির। শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বাহারি আলু, শালগমে বাজার ছেয়ে থাকলেও বেশিরভাগ সবজির দাম এখনো বেশ চড়া। বেশিরভাগ সবজির দাম ৪০-৫০ টাকা প্রতিকেজি। এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে সবজির দাম বেড়েছে কোন কোন বাজারে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, ফার্মগেট বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 গত বছরের শেষের দিকে ভারত রফতানি বন্ধ করায় পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। পেঁয়াজের কেজি উঠে যায় ২৫০ পর্যন্ত যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে। চীন, মায়ানমার, মিশর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি এবং পরবর্তীতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসার পর দাম কিছুটা কমে। নতুন দেশি পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকা মধ্যে চলে আসে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই নতুন দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকায় উঠে যায়। গত সপ্তাহেও বাজার ভেদে নতুন দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার খবর আসে। এতে দেশের বাজারে কমতে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫০ টাকা কমে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ এখন খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। কারওয়ান বাজারে এ পেঁয়াজ পাইকারি মূল্যে ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া যায়। পেঁয়াজের দাম কমার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী নোয়াব আলী বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হওয়ায় দাম অস্বাভাবিক বাড়ে। এখন ভারত পেঁয়াজ দেয়ার কথা বলছে, এ কারণে দামও কমে গেছে। সামনে দাম আরও কমবে। পেঁয়াজের দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে যেসকল ব্যবসায়ী পেঁয়াজ কিনে রেখেছেন তার একন লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে বলেও জানা যায়। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি। ক্রেতারা বলছেন ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকার নিচে হওয়ার কথা। এদিকে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি।

 বাজারের সবচেয়ে সহজলভ্য, কমদামি সবজি পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে। করলা ৫০-৭০, দেশি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে এখন ৪০-৬০ টাকা হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজরের। ভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা। ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপি। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ২০-২৫ টাকার মধ্যে। নতুন গোল আলু ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৫০ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের সবজি কিনতে আসা রুহুল আমিন বলেন, শীতের সময় সবজির এতো দাম থাকে না। এখন বেশিরভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে এতো দাম দিয়ে তো বেশি সবজি কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। ক্রেতাদের অভিযোগ, শীতের সময় নানারকম সবজির সরবরাহ থাকে। এ কারণে দামও কম থাকে। ফলে শীতের সময় মানুষ সবজি খেয়ে তৃপ্তি পায়। তবে এ বছর শীতের সবজির দাম স্বস্তি দিচ্ছেনা কাউকেই।