দরুদ পাঠের প্রয়োজনীয়তা

দরুদ পাঠের প্রয়োজনীয়তা

আলহাজ¦ হাফেজ মাওঃ মুহাম্মদ আজিজুল হক: আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে নবী! বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো তবে আমার অনুসরণ করো । তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালো-বাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। (সূরা: আল-ইমরান, আয়াত: ৩১) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না- যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল মানুষ হতে অধিক প্রিয় হবো” (বুখারী) সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াতে প্রিয় নবীজির শানে আল্লাহ তায়ালা বলেন “আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর জন্য সালাত এবং সালাম প্রেরণ করো”। আয়াতে প্রথমে আল্লাহ স্বয়ং নিজের ও তাঁর ফেরেশতাগণের দরুদ পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর সাধারণ মুমিনগণকে দরুদ প্রেরণ করার আদেশ দিয়েছেন। এতে নবীজির মাহাত্ম্য ও সম্মানকে এত উচ্চে তুলে ধরা হয়েছে যে, রাসূল (সাঃ) এর শানে যে কাজের আদেশ মুসলমানদের দেয়া হয়, সে কাজ স্বয়ং আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণও করেন। অতএব যে মুমিনগণের প্রতি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দয়া-অনুগ্রহের অন্ত নেই, তাদের তো এ কাজে খুব যতœবান হওয়া উচিত। সে জন্য নবীজির মাহাত্ম্য প্রকাশ করা এবং তার সম্মান, মুহাব্বত ও আনুগত্য করা প্রত্যেকের জন্যই জরুরি। বিশ্বনবী (সাঃ) কে কোন প্রকার কষ্ট দেয়া, কটুক্তি করা, তার সত্তা অথবা গুণাবলীতে প্রকাশ্য অথবা ইঙ্গিতে দোষ বের করা কুফরী। এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ তায়ালার অভিসম্পাত ইহকালেও হবে এবং পরকালেও। (মাযহারী)
ফিকাহ্বিদদের মতে জীবনে অন্তত একবার দরুদ শরীফ পড়া ফরজ। যদি কোন মজলিসে একাধিকবার নবীজি (সাঃ) এর নাম মোবারক উচ্চারণ হয়, তাহলে একবার দরুদ পাঠ করা ওয়াজিব। প্রত্যেকবার পড়া মুস্তাহাব। রাসূল (সাঃ) বলেন, প্রকৃত কৃপণ ওই ব্যক্তি যার নিকট আমার নাম উচ্চারণ করা হয়, অথচ সে আমার উপর দরুদ পড়ে না। (তিরমিজি)। দুনিয়ার প্রয়োজন মিটানো, রিজিকের পেরেশানির বিরুদ্ধে দরুদ শরীফ শক্ত হাতিয়ার সমতুল্য। যে দোয়ার শুরুতে ও শেষে দরুদ পড়া হয় সে দোয়া অবশ্যই কবুল হয়। (হিসনে হাসীন) মহানবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি অধিক পরিমান দরুদ পাঠ করবে কিয়ামতের দিন সেই আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে। (মিশকাত শরীফ) অন্য হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার প্রতি দশটি রহমত নাজিল করেন। দশটি গুনাহ মাফ করেন। জান্নাতে দশটি মর্তবা বুলন্দ করেন। আর দশজন গোলাম আজাদ করার নেকী দান করেন। (নবীজির মুহাব্বত)
আর মুমিন বান্দা যখন দরুদ পড়তে শুরু করে তখন তার জন্য আসমানের দরজা আল্লাহর আরশ পর্যন্ত উন্মুক্ত হয়ে যায় এবং সকল ফেরেশতারা আল্লাহর আরজি মোতাবেক দোয়া করতে থাকেন। আর যে ব্যক্তি মুহাব্বতের সাথে দিনে তিনবার ও রাতে তিনবার দরুদ পড়ে, সে আল্লাহর নিকট (হক্ব) পাওনাদার হয়ে যায় এবং তার জান্নাতের মূল্য আদায় হয়ে যায়। (তাবারানী) যে ব্যক্তি প্রতিদিন ফজর নামাজের পর দরুদে ইবরাহীম  (যেই দরুদ নামাজে পড়া হয়) দশবার পড়বে, সে ব্যক্তির রূহ নবী-সিদ্দীকদের মত বের করা হবে। নবীর শাফায়াত নসীব হবে। পুলসিরাত অতি সহজে পার হবে। ফেরেশতারা সেজদায় পড়ে আল্লাহর নিকট তার গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করতে থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। (তারগীব) জুমআর দিন দুইশবার দরুদ পড়লে আল্লাহপাক দুইশ বছরের গুনাহ মাফ করে দেন। (কাঞ্জুল উম্মাল)
দরুদ পাঠকারীর আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এর সšুÍষ্টি লাভ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, দরিদ্রতা দূরীভূত হয়, কাজে সফলতা আসে, অনায়াসে মনোবাঞ্ছাপূর্ণ হয়, জীবন শান্তিময় হয়, মৃত্যুর সময় ফেরেশতাদের মাধ্যমে সুসংবাদ লাভ হয়। এরকম বহু সুসংবাদ রয়েছে। এখানে নমুনা স্বরূপ কিছু ফজিলত লেখা হয়েছে মাত্র। তাছাড়া বিশেষ বিশেষ দরুদ শরীফের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন ফায়দা। প্রিয় হাবিবের প্রতি দরুদ না পড়া দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের প্রতি নবীজির ইহসান কি কম? দয়া মায়ার কমতি আছে কি? তাহলে প্রতিদিন নবীজির উপর অন্তত কিছু সময় দরুদ পাঠ করি। হয়ে যাই নবীপ্রেমিক। ইশক-মুহাব্বত ও প্রেম ভালোবাসা দাবি ও আশা-আকাঙ্খার নাম নয় বরং মুহাব্বত হলো আল্লাহ ও রাসূল (সাঃ) এর বিধিবিধান সাদরে গ্রহণ করা ও হারাম বস্তু থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকার নাম। রাসূল (সাঃ) এর অনুসরণ-অনুকরণ ও আনুগত্য মুহাব্বতের সবচেয়ে বড় আলামত এবং প্রেম-ভালোবাসায় বৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর।
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক-ইসলামী গবেষক
০১৭৩৪-৭১৮৩৬০