থেমে নেই সড়কে মৃত্যু

থেমে নেই সড়কে মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে প্রতিদিনই ঘটছে এবং বছরে এতে হতাহত হচ্ছে ২০ সহস্রাধিক মানুষ। দুনিয়ার যে সব দেশে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেশি বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ৫৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে। আর ৩৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে। বিশেষজ্ঞরা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য তিনটি কারণকে দায়ী করেছেন ওভারস্পিড, ওভারটেকিং এবং যানবাহন ও রাস্তার ত্রুটি। ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্য সরকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্রাটেজিক অ্যাকশন। কিন্তু তারপরও ড্রাইভিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমনিতেই ট্রাফিক আইন আমাদের প্রয়োজনীয় শক্তিশালী নয়, যে টুকু আছে তার পূর্ণ প্রয়োগও নেই। ব্যবহারের ওপরই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের অর্থ নিয়ে ছেড়ে দিলে কিংবা দুর্ঘটনার পরও মামলার অপরাধীর সাজা না হলে একজন চালক বেপরোয়া হবেই। আবার যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতাও অনেক দুর্ঘটনার কারণ। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই না ভাবলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। আমরা মনে করি। সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা বাড়ানো কোনো অসম্ভব কাজ নয়। এ জন্য বেপরোয়া যান চালানো বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। লাইসেন্সধারী চালক ফিটনেসবিহীন যানবাহন যেন রাস্তায় নামতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার  রাশ টেনে ধরতে হলে সংশ্লিষ্ট সবক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় যতœবান হতে হবে।