ত্রিভূজ প্রেমের বলি রওনক

ত্রিভূজ প্রেমের বলি রওনক

মাইসার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কলেজছাত্র রওনকের। সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে তুহু নামের আরেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে রওনক। তুহুও রওনকের পাশাপাশি আরেকটি ছেলের সঙ্গে সমানতালে প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল। এ নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হতো রওনকের; এ নিয়ে রওনক তাকে হুমকি-ধমকিও দিয়ে আসছিল।

আর এর জের ধরেই রওনককে খুনের পরিকল্পনা করে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ প্রেমিক ওই যুবক। রওনকের সঙ্গে মাইসার আগে সম্পর্ক ছিল। তাই মাইসাকে ব্যবহার করে রওনককে হোলি উৎসবে নিয়ে আসে ওই যুবক। এরপর পূর্ব পরিকল্পনা মতো শাঁখারী বাজার শনি মন্দিরের সামনে রওনককে ঘিরে ফেলে ২০-২৫ জন। এদের মধ্যে কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে।

মঙ্গলবার (০৬ মার্চ) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে গ্রেফতারদের জবানবন্দির ভিত্তিতে সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খাঁন এসব কথা জানান। গত ১ মার্চ শাঁখারী বাজারে হোলি উৎসবে এ খুনের ঘটনায় সোমবার (৫ মার্চ) দিনগত রাতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতাররা হলেন- রিয়াজ আলম ওরফে ফারহান, ফাহিম আহম্মেদ ওরফে আব্রো, ইয়াসিন আলী, আল আমিন ওরফে ফারাবী খাঁন ও লিজা আক্তার ওরফে মাইসা আলম। পুলিশের ডিসি ইব্রাহিম খাঁন বলেন, ঘটনার দিন রওনক কামরাঙ্গীর চরের বাসা থেকে কলাবাগানে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তুহুর অপর প্রেমিকের পরিকল্পনায় মাইসার প্ররোচণায় রওনকসহ তার আট বন্ধু শাঁখারী বাজারে যান।

‘রওনক সেখানে পৌঁছানোর আগেই ওই যুবক লক্ষ্মীবাজার কেএফসি রেস্তোরাঁর সামনে কয়েকজন মিলে শলা-পরামর্শ করে। ওই সময় কয়েকজনকে ছুরিও সরবরাহ করে ওই যুবক। গ্রেফতারদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, রওনক শাঁখারী বাজার শনি মন্দিরের সামনে গেলে প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। এরপর চলে ছুরিকাঘাত। সেখান থেকে জখম অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

‘তুহুর অপর প্রেমিক ও খুনের পরিকল্পনাকারী ওই যুবককে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। সঙ্গত কারণেই তার নামটি বলছি না। গ্রেফতারদের মধ্যে ফারহান নিজেই ছুরিকাঘাত করেছেন। মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।’

তবে এই ঘটনার সঙ্গে তুহুর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। ডিএমপির উপ-কমিশনার ইব্রাহিম খাঁন বলেন, তুহুর দুই প্রেমিকের মধ্যে দ্বন্দের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে। কিন্তু ওইদিন তুহুর সঙ্গে তাদের কারো যোগাযোগ হয়নি এবং কথোপকথনের কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, রওনক, মাইসা, তুহু কিংবা এই বন্ধুমহলের কেউ কোনো নির্দিষ্ট এলাকা অথবা একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেন না। তারা ফেসবুকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন এবং নির্দিষ্ট সময়ে তারা একসঙ্গে দেখা করেন। এদের মধ্যে কলেজছাত্র যেমন রয়েছে তেমনি ফলের দোকানিও আছে।

উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে তাদের পরিবারকে আরো সচেতন হওয়া উচিত জানিয়ে ডিসি ইব্রাহিম বলেন, তারা কোথায় কী করছে, কোথায় যাচ্ছে এসব বিষয়ে পরিবারের আরো নজরদারি বাড়ানো উচিত।