তেঁতুলিয়ায় চা পাতা বিক্রি না হওয়ায় চাষিরা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে !

তেঁতুলিয়ায় চা পাতা বিক্রি না হওয়ায় চাষিরা পাতা কেটে ফেলে দিচ্ছে !

এম.এ বাসেত, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) :  পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ায় ১৫টি কারখানার মালিক নিয়মিত চা পাতা না কেনায় বিপাকে পড়েছে চাষীরা। সঠিক সময়ে বাগানের কাঁচা পাতা বিক্রি করতে না পারায় কেটে ফেলে দেয়ার পাশাপাশি বাগান পরিচর্চায় অনিহা দেখা দিয়েছে। জানা যায়,  তেঁতুলিয়ায় চা চাষ করে নগদ অর্থ পাওয়ায় গ্রামের সাধারণ কৃষকেরা ধান চাষের জমি, সবজি চাষের জমি, বাঁশঝাড়, বনজ ও ফলদ বাগান উজাড় করে চা বাগান করেন। তখন চাষীরা বাগানের কাঁচা চা পাতা কারখানার মালিকদের কাছে ২৫ থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। কিন্তু সম্প্রতি চা কারখানার মালিকেরা নানা অজুহাতে চা পাতার দাম কমাতে থাকে। চা চাষীরা এবিষয়ে একাধিক আন্দোলন করার পর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক চা পাতা ক্রয়ের নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৪.৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। এই দামে বেশ কিছুদিন চা পাতা কেনেন কারখানার মালিকেরা।

সর্বশেষ গত ১৪ জুলাই পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চা কারখানার মালিক, চা বাগান মালিক ও জেলা প্রশাসন সুধীজনের সমন্বয়ে চারপাতাযুক্ত চায়ের কুঁড়ি কাঁচা পাতার মূল্য নির্ধারণ বিষয়ে আলোচনা সভায়  ১৬.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে কোনো চাষীর পাতার মান ভাল না হলে ১০% হারে কর্তন করে চাষীদের মূল্য পরিশোধ করবে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসকের ওই সভার সিদ্ধান্তগুলো ব্যতিরেকে কারখানার মালিকগণ ৩৫% থেকে ৪০% কর্তন করে ১২.৫০ টাকা দরে মূল্য পরিশোধ করেন। এক্ষেত্রে চাষীদের ভাউচারে কর্তনের হিসাব ও প্রতি কেজির মূল্য উল্লেখ না করে শুধুমাত্র মোট টাকা পরিশোধ করেন। এ ব্যাপারে কোনো চাষী অজুহাত দিলে তার পাতা ওই কারখানার মালিক নিচ্ছে না। ফলে চা চাষীদের দিন দিন অর্থনৈতিকভাবে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

চা বাগান মালিক ডা. আবুল বাশার বলেন, আমি ২ একর জমিতে চা বাগান করেছি। কিন্তু বর্তমানে চা পাতার দামের পতনের পাশাপাশি কারখানার মালিকরা নানা অজুহাতে পাতা কিনছে না। শ্রমিক দিয়ে বাগানের কাঁচা পাতা কেটে ফেলে দিতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে পাতা বিক্রি করতে না পারায় প্রতি মাসে আমাকে দেড় লাখ থেকে দু’লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাগান উপড়ে ফেলে দিতে হবে।কাজীপাড়া গ্রামের চা বাগানের মালিক কাজী মতিউর রহমান বলেন, চা চাষীদের অবস্থা অনেকটা তৎকালীন নীল চাষীদের মতো হয়েছে। কারণ চা কারখানার মালিকদের একতরফা সিদ্ধান্তে কাঁচা পাতা যে মূল্যে কিনছে তা দিয়ে বাগানের সার-কীটনাশক ও পাতা তোলার কামলা খরচও হয় না।  ফলে বাগানের পরিচর্চা করাও সম্ভব হচ্ছে না। নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্প, বাংলাদেশ চা বোর্ড, পঞ্চগড়ের প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, চা চাষীরা যেনো পাতার ন্যায্য মূল্য পান সেই জন্য চা বোর্ডের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কারখানার মালিক ও বাগান মালিকদের নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু কারখানার মালিকেরা সেই শর্ত এখনো বাস্তবায়ন করছে না।