তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন ৫ বছর ধরে বিকল

তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্সরে মেশিন ৫ বছর ধরে বিকল

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিনটি প্রায় ৫ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়েছে। আল্টাসনোগ্রাম মেশিন, কাডিওগ্রাফার মেশিন ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বিভাগ থাকলেও জনবলের অভাবে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৩১ শর্যা থেকে ৫০ শর্যা উন্নীত করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট ও সহকারী সার্জন সহ ২৮ জনের পদ বিদ্যমান। কিন্তু তদস্থলে মেডিকেল অফিসার-৪ জন সহ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ ২৩ জন চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য। হাসপাতাল পরিসংখ্যান বিভাগের তথ্যানুযায়ী, হাসপাতালে বর্হিবিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন এবং আন্তঃবিভাগে গড়ে ২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। বিপুল সংখ্যক মেডিকেল অফিসারসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক সংকট থাকায় হাসপাতালের বহিঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগে বেশি ভাগ সময়ে মেডিকেল অফিসার (এমবিবিএস) চিকিৎসক দ্বারা রোগীরা সেবা পায় না। ফলে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফিজিও থেরাপিস্ট, ডেন্টাল সহকারী চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রোগীদের একমাত্র ভরসা।

 এ ছাড়া তিরনইহাট ও কালান্দিগঞ্জ এবং  ভজনপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন মেডিকেল অফিসার (এমবিবিএস) নাই। একজন উপসকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে ভজনপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং তিরনইহাট ও কালান্দিগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন ফার্মাসিট জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দেন। উপজেলার প্রায় দু’লক্ষাধিক লোকের চিকিৎসকার একমাত্র ভরসাস্থল তেঁতুলিয়া হাসপাতাল। তেঁতুলিয়ার সাতটি ইউনিয়নে সমতলে মাটি খনন করে নুঁড়ি পাথর উত্তোলণ, মহানন্দা নদীর পাথর উত্তোলণ, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পাথর বোঝাই ট্রাক লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক, পাথর নেটিং-সটিং কাজসহ চা বাগানে পঞ্চগড় জেলা ও পাশর্^বর্তী নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা থেকে আসা প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক নানামুখী কাজ করে। বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কখনও পাথর সাইটের ও চা বাগানে বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়সহ সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হয়ে হাত-পায়ে গুরুত্বর জখম হন। কিন্তু হাসপাতালে এক্সরে মেশিন না থাকায় রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিতে ভীষণ ভোগান্তি পোহাতে হয়।
বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজে নিতে হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটে। একটি সূত্রে জানা যায় হাসপাতালে     কোন গাইনি চিকিৎসক না থাকায় আন্তঃস্বত্তা রোগীদের রেফার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্সে নেওয়ার পথে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রায় ১২ জন সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে।উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা, ডা. আবুল কাশেম বলেন, হাসপাতালের জনবল তীব্র সংকট থাকার পরও জনসাধারণকে সাধ্যমত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। আমি যোগদানের পর থেকে নিজে আল্টাসনোগ্রাম মেশিন চালু করেছি।   এ ছাড়া নতুন এক্সরে মেশিন ও প্রয়োজনীয় জনবলের চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলাবাসী হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট নিরসনের পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোঃ মজাহারুল প্রধান এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।