তৃণমূলের নির্বাচনী ভাবনা

তৃণমূলের নির্বাচনী ভাবনা

আতাউর রহমান মিটন : বাংলাদেশের ‘হিমালয় কন্যা’ খ্যাত উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে বসে লিখছি। গত রোববার বোদা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে নাগরিক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলসমূহের কাছে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার অংশ হিসেবে মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করা হয়েছিল। সভায় সভাপতিত্ব করেন, স্থানীয় পাথরাজ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব প্রবীর চন্দ নয়ন। সভায় বোদা পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেশ কয়েকজন তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে খসড়া নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন প্রভাষক সাজেদুল ইসলাম আকাশ।

সংলাপের আলোচনায় বোঝা গেল যে মানুষ নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছে। তৃণমূলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দারুণ আগ্রহ রয়েছে। মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। পাঁচ বছর পরে পাওয়া একটি ভোট দিতে পারার সুখ তারা কেউ মিস করতে চান না। যদিও অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে যে, মানুষ আদৌ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন কিনা। মানুষের মধ্যে আরেকটি মত খুবই প্রবল মনে হলো। সেটা হচ্ছে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যারা এলাকায় থাকেন না, যারা স্থানীয় নন এমন ব্যক্তিদের চেয়ে যারা স্থানীয়, যাদেরকে ভোটের পরেও সহজে পাওয়া যায় এমন ব্যক্তিদের বাছাই করা। মৌসুমী, হাইব্রিড প্রার্থীদের মনোনয়ন না দেয়ার জন্য স্থানীয় মানুষেরা মত ব্যক্ত করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য ‘রাজনীতি এখন গরীবের বউ’ কথাটি এখানেও বলতে শোনা যায়। সবাই মনে করেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা জনগণের মনের কথা। সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের উচিত বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ এবং রাষ্ট্রের অভিভাবক যা বলেছেন তা অনুসরণ করা।


রাজনীতির সত্যিকারের গুণগত পরিবর্তন চাইলে প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক হওয়া অত্যাবশ্যক। টাকার জোরে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে পারলে রাজনীতিতে বিরাট একটা পরিবর্তন আসবে। যারা দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করতে করতে যারা মাথার চুল পাকিয়েছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে যারা নিবেদিত ছিলেন, তাদের অবদান ও ত্যাগকে বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীতার সুযোগ দেয়া উচিত। অবশ্যই একজন আইন প্রণেতাকে অভিজ্ঞ হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় সংসদ কোন ‘রুটি ভাগ’ করার জায়গা নয়, জাতীয় সংসদ হলো আইন সভা এবং তাদের মুখ্য কাজ আইন পর্যালোচনা, সংশোধন ও প্রণয়ন করা। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় দেশকে পরিচালনা করা। জনগণের মতামতকে জাতীয় সংসদে তুলে ধরার মাধ্যমে সরকারের নির্বাহী বা শাসন বিভাগের কাজকে সহায়তা করা। একজন মাননীয় সংসদ সদস্য নিঃসন্দেহে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিধায় তিনি জনগণের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরবেন এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করবেন। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে আমাদের বিভিন্ন স্তরের জন প্রতিনিধি রয়েছেন এবং তাদের প্রত্যেকের কাজের পরিধি আলাদা। যেমন একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বা চেয়ারম্যান তিনি ইউনিয়নের জনগণের সুখ-দুঃখ বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকবেন এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন। ইউনিয়ন পরিষদ এর মাধ্যমে সরকার তৃণমুলে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে সহযোগিতা করবেন। ইউনিয়ন পরিষদ এর বাজেট এবং কাজের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। সেখানে শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত হয়ে আসার সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এরপর রয়েছে উপজেলা পরিষদ। তাত্ত্বিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এর উপরে উপজেলা পরিষদ এর অবস্থান। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় এই স্তরের ভূমিকা ও দায়িত্ব অনেক। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় উপজেলা পরিষদ কার্যতঃ ‘নিধিরাম সর্দার’। মূলতঃ জাতীয় সংসদ সদস্যের আধিপত্য নিশ্চিত করতে গিয়ে উপজেলা পরিষদ এর ভূমিকাকে দাবিয়ে রাখা হয়েছে। এটাও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে বিরাট এক বাধা।


বোদা উপজেলায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার এই আয়োজনে যোগ দিয়ে অনুভব করলাম এ ধরনের সংলাপ আসলে সারাদেশেই হতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক। এটা স্থানীয় নির্বাচনের মত নয়। এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে যাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হতে পারবেন তাঁরাই সরকার গঠন করবেন। সেদিক থেকে রাজনৈতিক দলের আদর্শ, মূল্যবোধ এবং কর্মসূচি সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেকটি দল এক বা একাধিক আদর্শের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নির্ধারিত হয় কর্মসূচি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমাদের দেশের মানুষ সাধারণতঃ দলের এসব কর্মসূচি সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখেন না। প্রত্যেকটি দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র রয়েছে কিন্তু খুব বেশি মানুষ এগুলো দেখেছেন বলে মনে হয় না। মানুষ এই কেতাবগুলোর লিখিত বক্তব্যে খুব একটা আগ্রহী নন। বরং মানুষ দেখেন প্রার্থী, দেখেন তাদের অতীতের কর্মকান্ড, শোনেন ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা।

প্রার্থীরা সাধারণতঃ ভোটে জেতার জন্য প্রায় সব রকমের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এগুলো রক্ষা করা হয় না। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও নির্বাচনের সময়ে ভোটাররা প্রার্থীদের অঙ্গীকার বা ওয়াদা সম্পর্কে জানতে চান। যেমন, বোদার মানুষ রেল সংযোগ চান। তারা চান পঞ্চগড়ের কৃষি সম্ভাবনার বিকাশ। এখানে চা, কমলা ছাড়াও টমেটোভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তুলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানান। পঞ্চগড়ের বালি ও পাথর একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য যা এখানকার অর্থনীতি বদলে দিতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে। সভায় কৃষি জমি সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি উঠেছে। প্রান্তিক মানুষেরা কোম্পানিগুলোর কাছে জমি বিক্রি করছে। এতে করে বেড়ে যাচ্ছে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য জেলাশহরে কাজের সন্ধাানে চলে যাচ্ছেন।

পঞ্চগড় জেলার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়েছে আলোচনা সভায়। সভায় প্রায় সকলেই বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণে আঞ্চলিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাব থাকাটা কাম্য নয়। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শিক্ষাবিদ রবিউল ইসলাম সাবুল তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন। এখানে মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিরাজমান কিন্তু কালের প্রবাহে তা ধ্বংস হয়ে যেতে বসেছে। তিনি মনে করেন, পঞ্চগড়সহ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। এই এলাকায় একটা সাস্কৃতিক বলয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি আরও মনে করেন, পঞ্চগড়ের পানি যেহেতু ভাল ও আর্সেনিকমুক্ত তাই সহজেই এখানে পানিভিত্তিক কারখানা গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি এই অঞ্চলের নদীখনন ও নদী সংরক্ষণে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, সরকার জনগণের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাসী কিন্তু সমস্যা হয় বাস্তবায়ন পর্যায়ে। বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গের নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে জনগণের টেকসই উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দের অধিকতর সুফল পাওয়া সম্ভব।


তৃণমূলের মানুষ উন্নয়ন সচেতন। তারা খুব ভাল করে জানেন তাদের কি প্রয়োজন। তারা যে বেশি কিছু চান এমন নয়। তারা অল্পতেই তুষ্ট কিন্তু অনেক সময়ই সেই সামান্য চাওয়াটুকুও পূরণ করা হয় না। যেমন, একজন স্কুল শিক্ষক বললেন হাইস্কুল এবং কলেজগুলোতে পরীক্ষার সেন্টার হওয়ার কারণে বছরের একটা বড় সময় সেখানে পাঠদান বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। অথচ প্রত্যেক উপজেলায় যদি আলাদাভাবে একটা মাল্টিপারপাস ভবন করা যায় যেখানে পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে আবার পাশাপাশি অন্যান্য কার্যক্রমও চলবে তাহলে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোন বিঘœ ঘটবে না। তেমনিভাবে দাবি উঠল হাউজ বিল্ডিং লোন এর। সরকার যদি স্থানীয় পর্যায়েও সহজশর্তে বাড়ি তৈরির জন্য ঋণ দেয় তাহলে মানুষকে শহরমুখী হতে হয় না। নিজ এলাকাতেই শহরের সুবিধা নিয়ে বাস করতে পারে। শহরের কলোনীগুলোর মত করে উপজেলা শহরেও যদি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসুবিধা সম্বলিত হাউজিং এলাকা গড়ে তোলা যায় তাহলে আবাসনখাতে কৃষি জমির ব্যবহার হ্রাস পাবে। মানুষ আধুনিক জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

আলোচনা সভায় উন্নয়নকর্মি আঞ্জুমান আখতার বলেন, প্রত্যেক এলাকাতেই অনেক গুণি ব্যক্তি রয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো এই কৃতী মানুষগুলোর কথা সকলের জানা প্রয়োজন। সে কারণে প্রত্যেক উপজেলায় একটি জাদুঘর বা স্মৃতি সংগ্রহশালা গড়ে তোলা প্রয়োজন যেখানে অন্ততঃপক্ষে ওই উপজেলার কৃতী মানুষগুলোর সম্পর্কে জানার এবং জানানোর সুযোগ থাকবে। যেমন- পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার একজন কৃতী মানুষ প্রয়াত মোহাম্মদ ফরহাদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তদানীন্তন ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ ও কমিউনিষ্ট পার্টির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ গেরিলা বাহিনীর প্রধান সংগঠক ও অধিনায়ক, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। আকণ্ঠ বিপ্লব পিয়াসী এই মানুষটি একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। বোদা পৌরসভার অন্তর্গত প্রামাণিকপাড়ায় তার বাড়ি। অথচ এই মানুষটির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বা এই মানুষটির কাজ ও জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে জানার বা জানানোর জন্য কোন উদ্যোগ নেই। তিনি একজন দেশ বরেণ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মানুষ।

দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিবেদিত মোহাম্মদ ফরহাদ এর মত মানুষদের সম্পর্কে জানার সুযোগ বৃদ্ধি জাতিকেই সমৃদ্ধ করবে। উল্লেখ্য, গত ৯ অক্টোবর ছিল মোহাম্মদ ফরহাদ এর ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি স্মরণে স্থানীয় কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ কমিউনিটি হাসপাতালের উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘স্মৃতিমেলা ও বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্প’ আয়োজন করা হয়েছিল।
করার আছে অনেক কিছু। উদ্যোগ নিবেন কে? যাঁরা জনপ্রতিনিধি তাদেরই তো উদ্যোগী হতে হবে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ‘রাজনৈতিক অঙ্গীকার’। যে দলই সরকার গঠন করুক তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারটাই মুখ্য। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতা না থাকলে দলগুলো ভোটের আগে যাই বলুক ভোট পার হলেই তাদের সুর ও গান পাল্টে যাবে। অতীতে আমরা সেটাই দেখেছি। যেমন, ভোটের আগে সবাই বলেন মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করবেন কিন্তু মাদক ব্যবসা সব সরকারের আমলেই প্রসারিত হয় প্রভাবশালীদের আশীর্বাদে। টেকসইভাবে দারিদ্র্য দূর করতে হলে ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা দরকার, এটা সবাই বুঝলেও বাস্তবে ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় সরকারের সত্যিকারের ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার সকলেই ভুলে যান। ইউনিয়ন পরিষদসহ জনপ্রতিনিধিদের প্রদত্ত ভাতা বাড়ানো দরকার। তাহলে দুর্নীতি অনেক কমে আসবে। এ দাবীটাও অগ্রাধিকার দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে না।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলে উৎসবের আমেজ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে। উৎসব প্রিয় বাঙালি তাদের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে অতীতে বুকের রক্ত ঢেলে দিতে কুণ্ঠিত হয়নি। আগামীতেও তারা অকুতোভয় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে নিজেদের ভোটাধিকার রক্ষা করবে। বুলেট দিয়ে কবির বক্ষ স্তব্ধ করে দেয়া সম্ভব কিন্তু মানুষের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়া কবিতা, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশী তাকে দেব’ কিংবা শহীদ নূর হোসেনের বুকের ক্যানভাসে লেখা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’- কেউ কোনদিন মুছে ফেলতে পারবে না। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার সংগ্রাম সফল হোক, জয় হোক মেহনতি জনতার।
লেখক : সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯