তাপমাত্রা কমে ২.৬ ডিগ্রিতে, থাকবে আরো দু’দিন

তাপমাত্রা কমে ২.৬ ডিগ্রিতে, থাকবে আরো দু’দিন

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে। বর্তমানে তাপমাত্রা কমে নেমেছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে হিমালয়ের কোলঘেঁষা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়।
আবহাওয়া অফিস বলছে, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির পর তাপমাত্রা এতো নিচে নামেনি। সে সময় শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিন্ম তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। এরপর ২০১৩ সালে ১১ জানুয়ারি সর্বনিন্ম তাপামাত্রা সৈয়দপুরে নেমে এসেছিলো ৩ ডিগ্রিতে।
 
আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল মান্নান জানান, আরো দুইদিন এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। এর চেয়ে আরো কমতেও পারে। এটা একেবারে সঠিক করে বলা যায় না। তবে দুইদিন পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দেশের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। কিন্তু তীব্র শৈত্যপ্রবাহ মাসজুড়েই বিদ্যমান থাকবে।
 
এদিকে সারাদেশের সঙ্গে রাজধানীর তপ্ত আবহাওয়াও হার মেনেছে কনকনে শীতের কাছে। এখানে তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রির নিচে। আবহাওয়া অফিস, সোমবার (০৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার এক পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছে, তাপামাত্রা কমে সবচেয়ে নাজেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে রংপুর অঞ্চলে। এক্ষেত্রে রংপুরে ৪ দশমিক ৯ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি, ডিমলায় ৩ ডিগ্রি, রাজারহাটে ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙে তাপামাত্রা নেমেছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে।
 
রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহীতে ৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি, ঈশ্বরদীতে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বগুড়ায় ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি, বদলগাছীতে ৪ ডিগ্রি ও তাড়াশে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
 
খুলনা অঞ্চলের মংলায় ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি, সাতক্ষীরায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, যশোরে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি, চুয়াডাঙ্গায় ৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি, কুমারখালীতে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি এবং খুলনায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
 
বরিশাল অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে- ভোলায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি, খেপুপাড়ায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি, পটুয়াখালীতে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি 


ও বরিশালে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকা অঞ্চলে সবচেয়ে কম টাঙ্গাইলে ৬ ডিগ্রি, ফরিদপুরে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি, মাদারীপুরে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি, গোপালগঞ্জে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, নিকলিতে ৭ ডিগ্রি ও ঢাকায় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
     
এছাড়া ময়মনসিংহে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং নেত্রকোণায় ৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবচেয়ে কম সীতাকুণ্ডে ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি, কক্সবাজারে ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি, আর সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে কম শ্রীমঙ্গলে ৫ দশমিক ৯ ডিগ্রি ও সিলেটে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
     
এক পূর্বাভাবে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বাংলাদেশের উত্তরপশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এ অবস্থায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত।

দেশের ওপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে সারাদেশে মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশা পড়বে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
     
আবহাওয়ার বর্তমানে পরিস্থিতে বাতাসের গতিবেগও বেড়েছে। এক্ষেত্রে কেবল ঢাকাতেই উত্তর/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। মূলত এ বাতাসের কারণেই কনকনে শীত অনুর্ভত হচ্ছে।
     
শীতের ব্যাপক প্রকোপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের নিন্ম আয় বিশেষত ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। উত্তরাঞ্চলের জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শিশু ও বৃদ্ধদের দেখা দিচ্ছে ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন ধরনের অসুখ