তরল দুধে আরও বিষ

তরল দুধে আরও বিষ

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বিএসটিআই অনুমোদিত ৯টি ব্র্যান্ডের পা¯ুÍরিত (প্যাকেটজাত) দুধের নমুনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে জানিয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে পা¯ুÍরিত দুধ ছাড়াও খোলা তরল দুধের ৫০টি নমুনা ছিল। খোলা তরল দুধের নমুনার কোনো কোনটিতেও গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা ও ক্যাডমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তিনটি সরকারি ও তিনটি বেসরকারি সংস্থার পরীক্ষাগারে এসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেছেন হাইকোর্ট। পা¯ুÍরিত ও অপা¯ুÍরিত তরল দুধে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া নিয়ে দেশ জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই জানা গেল, দেশের প্রধান মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মানদন্ডে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ পরীক্ষার কোনো নিয়মই নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুকের নেতৃত্বে দুই দফা গবেষণায় বাজারে থাকা বিভিন্ন কোম্পানির দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি ধরা পড়ার পর আদালত এই উদ্যোগ নিয়েছে। দুই দফা পরীক্ষায়ও দুধে মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি শনাক্তের সংবাদ হতাশাজনক। বিষয়টি অনভিপ্রেত এবং একই সঙ্গে বিস্ময়কর। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, এটি কেবল মুনাফার বিষয় নয়, সুস্থ -সবল প্রজন্ম গড়ে-তোলার মতো মৌলিক প্রশ্ন এর সঙ্গে জড়িত। দুধ সহ যে কোনো খাদ্য দ্রব্যে ভেজাল কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি মেনে নেয়ার মানে হলো, জাতির ধ্বংস ত্বরান্বিত করা। দেশে উৎপাদিত দুধে যদি ক্ষতিকর মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক থাকে, তাহলেও কি দেশীয় শিল্পের স্বার্থে মানুষকে সেই দুধ খেতে হবে? সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর উচিত, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা।