তবুও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন

তবুও বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ রেনিটিডিন

সম্প্রতি দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে) তাদের তৈরি রেনিটিডিন ট্যাবলেটে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির কারণে বিশ্ববাজার থেকে এটি তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ কারণে বাংলাদেশেও এই ওষুধ নিষিদ্ধ করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঘোষণার পরও সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ওষুধের দোকানগুলোতে এখনও বিক্রি হচ্ছে রেনিটিডিন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে রেনিটিডিন বিক্রি বন্ধের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। যে কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নির্মূলে বহুল প্রচলিত এ ওষুধটি বিক্রি এখনও বন্ধ হয়নি। তাছাড়া এর চাহিদাও অনেক। আর ওষুধ কোম্পানিগুলো এখন পর্যন্ত এ ওষুধ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশনাও আমাদেরকে দেয়নি। তাই এখনও বিক্রি চলছে।

রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার রিপন নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, রেনিটিডিনের চাহিদা অনেক বেশি। এটা বিক্রি নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু কোনো কোম্পানি এখন পর্যন্ত এ ওষুধ ফিরিয়ে নিতে আসেনি। এর মধ্যে শুধু অ্যাকমি ল্যাবরেটরিজ জানিয়েছে, তারা এসে ওষুধ ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তবে সেটির আগ পর্যন্ত মানুষও কিনছে, তাই আমরাও বিক্রি করছি।

বনানী এলাকার আজিজুল ইসলাম নামে আরেক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, সরকার এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেয়নি। আমরা কেন বিক্রি বন্ধ করবো? কয়েকটা পত্রিকায় নিউজের কারণে এত বহুল প্রচলিত ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা যায় না। আর ওষুধ কোম্পানিরাও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাহলে আমরা টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে বিক্রি না করে ফেলে রাখবো কেন?

রাজধানীর এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা বুঝে বিক্রি হচ্ছে রেনিটিডিন ট্যাবলেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিক্রেতা বলেন, ক্রেতা বুঝে এই ওষুধ বিক্রি করি। অনেক সময় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে বাজার মনিটরিংয়ে আসেন। কোনো ওষুধ নিষিদ্ধ হলেই এমনটা দেখা যায়। তাই সাধারণ ক্রেতা মনে হয় যাদের এবং যারা এই ওষুধ চায় শুধু তাদেরকে দেই।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, বাজারে নিবন্ধিত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ২২০ ধরনের রেনিটিডিন ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মাত্রার রেনিটিডিন ট্যাবলেট, সিরাপ ও ইনজেকশন। রেনিটিডিন প্রস্তুতকারী প্রায় প্রতিটি ফার্মা কোম্পানিরই বিভিন্ন মাত্রায় এই তিন ধরনের ওষুধই রয়েছে।

এ বিষয়ে একাধিক ওষুধ কোম্পানির একাধিক মেডিক্যাল প্রমোশনিং অফিসার জানান, রেনিটিডিন আর প্রস্তুত হয়তো করা হবে না। কিন্তু যে ওষুধগুলো বাজারে রয়েছে সেগুলো ফিরিয়ে এনে নিয়মানুযায়ী নষ্ট করা হবে না। সেগুলো কোনো না কোনোভাবে বিক্রিই হয়ে যাবে। অন্যথায় কোম্পানিগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে কোম্পানিগুলোর মজুদকৃত যে ওষুধগুলো রয়েছে, সেগুলো কিছু কিছু কোম্পানি বা নামকরা ওষুধ কোম্পানিগুলো নষ্ট করে ফেলবে। আর ক্রেতারা সচেতন হয়ে যদি এই ওষুধগুলো কেনা বাদ দিয়ে দেয়, তাহলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এদিকে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের রেনিটিডিন ওষুধটিতে মার্কিন ফুড ও ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) অল্পমাত্রায় এনডিএম (মেটালো বেটা ল্যাকটামেজ) পেয়েছে। এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূষিত বাতাসে পাওয়া যায়, যা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর আগে ব্লাড প্রেসারের ওষুধ ভালসার্তান ও লোসার্তানের ব্যাপারে তদন্ত করে উচ্চ মাত্রায় এনডিএম পেয়েছিল এফডিএ। সেসময় ওই ওষুধটিও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে রেনিটিডিনে তা অল্প মাত্রায় পাওয়ায় সেটি মারাত্মক ক্ষতিকর কিনা সেটা যাচাই করতেই ওষুধটি সাময়িক স্থগিত করেছে। এমনকি বাংলাদেশ থেকেও তারা ওষুধটি ফিরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে।

এনডিএম সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ব্যকটেরিয়া মানবদেহে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে থাকে। দূষিত বাতাস থেকে এটি মানবদেহে প্রবেশ করেই মারাত্মক ক্ষতি করে। সেক্ষেত্রে যদি ওষুধের মাধ্যমে সরাসরি রক্তের সঙ্গে মিশে যায়, তাহলে ক্যান্সারের ফ্যাক্টর বা সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করতে পারে। এ কারণে ভোক্তাদের নিজ দায়িত্ব থেকেই ওষুধটি কেনা ও সেবন বাদ দেওয়া উচিত। তাই বাজারে থাকলেও রেনিটিডিন না কেনার পরামর্শই দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।