ঢাকার সিটি নির্বাচন

ঢাকার সিটি নির্বাচন

ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আসন্ন। ভোট গ্রহণের সময় মত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা ততই সরগরম হয়ে উঠছে। পাড়া-মহল্লায় চোখে পড়ছে অতি পরিচিত নৌকা, ধানের শীষসহ হরেক রকমের প্রতীক সংবলিত পোস্টার। ঘরে ঘরে চলছে ভোট প্রার্থনা।  সেই সঙ্গে চলছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। এটাই ভোটের আগে স্বাভাবিক চিত্র। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে নানা প্রতিশ্রুতি দেবেন -এটাই স্বাভাবিক। ঢাকার সিটি নির্বাচনী পরিবেশ এরই মধ্যে উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। প্রচার শুরুতে উৎসব মুখর থাকলেও দু’দিন না যেতেই প্রার্থীদের কর্মি-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এনিয়ে প্রার্থীরা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগও করছেন। গত পাঁচ বছরে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে যানজটে ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্ম ঘন্টা নষ্ট হয়। আর যানজটের কারণে বছরে যে আর্থিক ক্ষতি হয়, অংকের হিসাবে তা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতা জারি করা সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশন তা আমলে না নেয়ায় গত বছর মহামারি আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ে এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ ছাড়া কয়েক বছর ধরেই ঢাকার বায়ু মান খারাপ হচ্ছে। এরই মধ্যে অপরিচ্ছন্নতা, দূষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিচারে গত বছর একাধিকবার বিশ্বের সবচেয়ে দুষিত বায়ুর শহরের তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ঢাকা। আগামীতে নির্বাচিত মেয়রদের এসব সমস্যা দূরীকরণের বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। সে জন্য ভোটারদের আস্থা কার ওপর থাকবে সে জন্য প্রার্থীদের চলছে ভোটারদের মন জয় করার প্রচারণা। এই প্রচারণা থাকুক শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। বিপক্ষ প্রার্থীদের সমর্থকদের উপর দৈহিক আক্রমণ বা সহিংসতা কখনই কাম্য নয়। এমনিতেই নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতা এ দেশে অনেকটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের মধ্যে থেকে যারা কাজ করছেন তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া ভালো। ভোটাররাই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করুক। গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সমার্থক। ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন এবং বিজয়ী প্রতিনিধি সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করবে- এ হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলকথা। তবে আমাদের সমাজে গণতান্ত্রিক কাঠামোগুলো আজও অনেক দুর্বল। একে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকা প্রয়োজন। না হলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়বে। নির্বাচন কমিশন বারবার সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা বলছে। এটা যেন কেবল মুখের কথা না থাকে- সেটা নিশ্চিত করার সময় এসেছে।