ঢাকার দু’সিটি নির্বাচন নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে প্রার্থীরা

ঢাকার দু’সিটি নির্বাচন নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে প্রার্থীরা

স্টাফ রিপোর্টার : পৌষের শীতে নগর জীবন বিপর্যস্ত হলেও ভোটের মাঠে উষ্ণতা ছড়াচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই সমাবেশ আর পথসভায় অংশ নেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন মানুষের কাছে। এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে আলোচনা করতে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। পরে ব্রিফিংয়ে সিইসি নুরুল হুদা জানান, নির্বাচন সমন্বয়ের কাজ করতে পারবেন না সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমদ। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরদিন গতকাল শনিবার সকালে সমর্থকদের নিয়ে ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন থেকে প্রচারণা শুরু করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনী বৈঠক চলাকালে নেতা-কর্মীদের প্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।

 মেয়র নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুরান ঢাকার উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তাপস। তিনি বলেন, এই প্রাণের ঢাকাকে গড়ার লক্ষ্যে আমরা নতুন প্রত্যয় নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। ঐতিহ্যের ঢাকাকে পুনরুজ্জীবিত করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা আমাদের ঢাকাকে সুন্দর ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলব। পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পথসভা করেন দক্ষিণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী। জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তুলে ধরেন নানা প্রতিশ্রুতি। এদিকে নিজের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাসায় ভোট চান আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস। গতকাল বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসায় গিয়ে ভোট চান তিনি। রাজধানীর ওয়ারীর ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দুপুরে আরকে মিশন রোডের গোপীবাগের সেকেন্ড লেনেই ইশরাকের বাসার নিচে গিয়ে ভোট চান আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী। তিনি বলেন, এখন থেকে ঢাকায় সম্প্রীতির রাজনীতি চলবে। সম্প্রীতির রাজনীতির মাধ্যমেই উন্নয়ন সম্ভব।

 প্রচারণায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম মিরপুরের শাহ আলী মাজারে দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। পরে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের সাথে নিয়ে পথসভা করেন তিনি। এবার নির্বাচিত হলে নগর উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও জানান তিনি। আতিকুল বলেন, আমি নির্বাচিত হলে, গত ৯ মাসে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি তা কাজে লাগিয়ে নগরের উন্নয়নের জন্য কাজ করব। এদিকে সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল। পরে উত্তর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমন্বয়ক তোফায়েল আহমেদ আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর কথা বললেও সংসদ সদস্যরা এতে অংশ নিতে পারবেন না বলে সাফ জানান সিইসি। অপর দিকে, দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যে কোনো সমস্যায় আমি নিজে আপনাদের সঙ্গে আছি। আমরা পুলিশকে ভয় পাই না। আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি।

 গত ১৩ বছর যারা ক্ষমতায় রয়েছে আমরা তো দেখেছি তারা কী করতে পারে। তাদের কোনো জনসমর্থন নেই। তাদের পাশে আজ ভোটাররা নেই। এ জন্য তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে এই নির্বাচনের ফলাফলকে পাল্টে দেয়ার চেষ্টা করছে। আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা এর দাঁতভাঙা জবাব দেব। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রচারণা শুরু করার আগে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সব ধরনের ভয়ভীতি উপক্ষো করে আগামী ৩০ জানুয়ারি ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল শনিবার রাজধানীর উত্তরায় বিএনপি সমর্থিত ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নাজিম উদ্দিনের নির্বাচনী ক্যাম্প উদ্বোধন করে তিনি এ আহ্বান জানান। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ডিএনসিসি মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল উত্তরার জয়নাল মার্কেট থেকে প্রচারণা শুরু করেন।

 এরপর তিনি আজমপুর হয়ে চৈতি গার্মেন্টস, উত্তরখান মাজার, ময়নার টেক, মাস্টার বাড়ি, আটপাড়া, ফয়েদাবাদ চৌরাস্তায় জনসংযোগ করবেন। শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে ১ নম্বর রোডের মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু করেন বিএনপির এই প্রার্থী। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ আউয়াল বলেন, প্রচারণার মাত্র দ্বিতীয় দিন। সামনের দিনগুলোতে দেখবো সব প্রার্থী প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে চালাতে পারেন কিনা। শুক্রবার বিকেলেও আমাদের অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। তাদের প্রচার কাজ দেরিতে শুরু করতে হয়েছে। বিএনপির সমর্থকরা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় আছেন। আমরা আশা করবো জনগণ যাতে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, ইসি (নির্বাচন কমিশনার) সেই ধরনের পদক্ষেপই নেবে। তিনি বলেন, ঢাকার নতুন ওয়ার্ডগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন করবো। যাতে আধুনিক ঢাকার সঙ্গে নতুন ওয়ার্ডের  সমতা আসে। এ সময় তাবিথের সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন- বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, যুবদল ঢাকা উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরপ্রার্থী দেওয়ান মো. নাজিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাকসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।