ডোমারে পাচারকালে ২৪৬ বস্তা ভিজিএফের চাল আটক

ডোমারে পাচারকালে ২৪৬ বস্তা ভিজিএফের চাল আটক

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : রাতের আঁধারে পাচারকালে ভিজিএফের ২৪৬ বস্তা চাল আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী বাজার এলাকায় একটি ট্রাক্টরের ট্রলিতে ওই চাল পাচারকালে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে  তা আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ সময় ট্রাক্টরের চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে ট্রাক্টরের ট্রলিসহ ওই সব চাল জব্দ করে। চালগুলো জেলার জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী জানায়, ওই ইউনিয়নের আরও ৩০০ বস্তা চাল ওই রাতে সোলেমানের চৌপথী দিয়ে পাচার করা হয়েছে। যা আটকের জন্য লোকজন ধাওয়া করলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভিজিএফের চাল পাচারের ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে গতকাল শুক্রবার সকালে এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদে বিক্ষোভ করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদ মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চালের গোডাউন সিলগালা করে দেয়। সেখানে শতশত মানুষজন ধর্মপাল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমানকে চাল পাচারকারী হিসাবে আখ্যায়িত করে তাকে গ্রেফতারসহ বিচার দাবি করেছে। জানা যায়, পাচারকালে আটককৃত ২৪৬ বস্তা চাল, প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি করে ছিল। এতে চালের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৮ মেট্রিকটন। যার বাজার মূল্য দুই লাখ ৮৯ হাজার ২৯৬ টাকা।

সূত্র মতে, সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কোরবানি ঈদ সামনে রেখে ভিজিএফ কার্ডধারীরা এবার ১০ কেজির পরিবর্তে ২০ কেজি করে চাল পাবে। নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১৫ কার্ডধারী পরিবারের জন্য ৮ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়। এরমধ্যে ধর্মপাল ইউনিয়নের জন্য ৬ হাজার ৩৭৫ কার্ডের বিপরিতে ১২৭ দশমিক ৫০০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে ইউপি চেয়ারম্যান ওই চাল জলঢাকা খাদ্যগুদাম হতে উত্তোলন করেন।

ধর্মপাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাসুদ বলেন, দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফসহ বিভিন্ন সরকারি উপকরণ বিতরণে সবসময় চেয়ারম্যান অনিয়ম ও কালোবাজারে বিক্রি করে। এ জন্য এলএসডি গোডাউন হতে জামিনুর চেয়ারম্যান যখন ভিজিএফের চাল উত্তোলন করে আমরা এলাকাবাসী অনুসরণ করি। এতে দেখা যায় বৃহস্পতিবার রাতে দুটি চালের ট্রলি ইউনিয়ন পরিষদে না নিয়ে পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা বোড়াগাড়ি হাটে ট্রাকটরটি আটক করে পুলিশে খবর দেই। পুলিশ ট্রাকটরটি আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ডোমার থানার এসআই মো: মোস্তফা জানান, খবর পেয়ে আমরা বোড়াগাড়ি হাট হতে ২৪৬ বস্তাভর্তি একটি ট্রাকটরের ট্রলি আটক করে থানায় নিয়ে আসি।

এ ব্যাপারে ধর্মপাল ইউপি চেয়ারম্যান জামিয়ার রহমান চাল পাচারের অভিযোগটি অস্বিকার করে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি ১ হাজার ৪৭৫ কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করেন ২৯ দশমিক ৫ মেট্রিকটন। তবে ইউপি চেয়ারম্যানের এই কথার প্রতিবাদ করে এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার ইউপি চেয়ারম্যান বিকালে মাত্র ৩০ পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করেছিলেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আখতারুজ্জামান জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।