ডেঙ্গুর প্রকোপ

ডেঙ্গুর প্রকোপ

ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্তের আগের রেকর্ড ভেঙেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, গত সোমবার রাজধানীতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৪০৩ জন মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে, যা ২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ডেঙ্গুতে আক্রান্তের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তবে বেসরকারি হিসাবে গতকাল ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে এর চেয়েও তিন-চারগুণ বেশি। সোমবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো: শাহাদত হোসেন হাজরা। ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ডেঙ্গু জ্বর ভালো হয়ে যায়। ঢাকায় এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু জ্বর এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। বরাবরের মতোই নগর কর্তৃপক্ষের দাবি হলো, কেবল মানুষ সচেতন হলেই মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। মশাবাহিত রোগের জন্য নগরবাসীর অসচেতনতাকেই দায়ী করছেন তারা। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের আমলে নিতে হবে, নগর বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভঙ্গুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ও জলাশয়গুলোর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না থাকাকে মশার বংশ বিস্তারের অন্যতম কারণ। সঙ্গত কারণেই সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা  করা। মোট কথা, একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হোক। নইলে নগর থেকে শহর, শহর থেকে গ্রামের
মানুষ আক্রান্ত হলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।