ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দিতে এখনও গড়িমসি!

ডেঙ্গু রোগীর তথ্য দিতে এখনও গড়িমসি!

ছুটির দিন শুক্রবার হঠাৎ করে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। আজ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩৯০ জন। এর আগে টানা কয়েকদিন (১৯ জুলাই থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২৬৯, ৩০৮, ৩১৯, ৪০৩, ৪৭৩, ৫৬০ ও ৫৪৭ জন।

হঠাৎ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কম হওয়ার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে হাসপাতালগুলো বিশেষ করে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রাইভেট হাসপাতালগুলো বহুলাংশে দায়ী। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর চিকিৎসকদের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি রোগীদের তথ্য নিয়মিত পাঠানোর জন্য তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠানো হলেও তাদের অনেকেই প্রতিবেদন পাঠায়নি। বর্তমানে রাজধানীজুড়ে ডেঙ্গু আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন অবস্থাতেও শুক্রবার ছুটির দিনের দোহাই দিয়ে অনেকেই ডেঙ্গু রোগের তথ্য পাঠায়নি। তাদের অনেকের কথাবার্তা শুনে মনে হয় শুক্রবার ছুটির দিন বলে মশা কাউকে কামড়ায় না। এদিকে গত রাতেও রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন নারী চিকিৎসক মারা গেছেন।’

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আয়েশা আক্তার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ৩৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৩৬ জন, শিশু হাসপাতালে ৮, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২২, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৯, বারডেম হাসপাতালে ৪, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ৩৭, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ ও বিজিবি সদর হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে ১১০ জন, ঢাকা বিভাগে একজন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৩ জন ও খুলনা বিভাগের হাসপাতালে দু’জন রোগী রয়েছেন।

প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর মধ্যে ইবনে সিনা হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৯, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ২৯, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ২১, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ১৭, ইউনিভার্সেল হাসপাতালে ৮ ও পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন ভর্তি হন।