ডেঙ্গু নির্ণয়ে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল

ডেঙ্গু নির্ণয়ে অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল

 সম্প্রতি ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু নির্ণয় করতে নির্দেশনা দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগটি নির্ণয়ে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছিল দপ্তরটি। কিন্তু এ নির্দেশনার একদিনের মাথায়ই তা মানছে না রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো। নিচ্ছে অতিরিক্ত ফি।

এর মধ্যে রাজধানীর ধানমন্ডির পপুলার, ইবনে সিনা ও ল্যাব এইড হাসপাতালে নির্ধারিত ফি গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তবে রাজধানীতে বিস্তৃত ইবনে সিনা ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব শাখায় এই অনিয়ম চলছে না বলে জানা গেছে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে। তবে নির্ধারিত ফি না মানার অভিযোগ সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাজধানীর অখ্যাত হাসপাতালগুলোতে।

সাধারণত, এই অখ্যাত হাসপাতালগুলোতে সারাবছর তেমন কোনো রোগীর দেখা পাওয়া যায় না। আর বর্তমানে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের অতিরিক্ত চাপের কারণে এ ধরনের ছোট আকারের ও অখ্যাত হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে ভিড়। এমনকি রাজধানী ঘুরে সব বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ব্যাপক সিট সংকটের কথাও জানা গেছে।

ঠিক এমন সুযোগে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়ের ফি বাড়িয়ে নেওয়া ছাড়াও এ রোগের চিকিৎসায় রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ডেঙ্গু নির্ণয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফিগুলো হলো- ডেঙ্গু NS1 টেস্ট ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যার আগের মূল্য ছিল ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা; IgM+IgE অথবা IgM/IgE টেস্ট ৫০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যার আগের মূল্য ছিল ৮০০ থেকে ১৬০০ টাকা এবং CBC (RBC+WBC+Platelet+Hematocrit) টেস্ট ৪০০ টাকা (সর্বোচ্চ), যার আগের মূল্য ছিল ১০০০ টাকা। তবে এর আগে এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা মূলত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারেই নির্ধারণ করা হতো।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের উপ পরিচালক মঞ্জুর মো. শাহরিয়ারের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক আফরোজা রহমান ও আব্দুল জব্বার মণ্ডল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নির্দেশনা দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিআরবি, শমরিতা, স্কয়ার, আনোয়ার খান, ল্যাবএইড, পপুলার ও ইবনে সিনা হাসপাতালে তদারকি করেন। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য না রাখায় পপুলার হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া ল্যাবএইড হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালে কিছু ত্রুটি পাওয়ায় মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) তাদের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অফিসে হাজির হতে বলা হয়।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরটির ঢাকা বিভাগের উপ পরিচালক মঞ্জুর শাহরিয়ার বাংলানিউজকে বলেন, সোমবার আমরা ডেঙ্গু নির্ণয়ে সরকারের নির্ধারিত ফি’র বাইরে কোনো হাসপাতাল অতিরিক্ত ফি নিচ্ছে কি-না, তা পর্যবেক্ষণ করেছি। ল্যাবএইড হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের অফিসে আসতে বলেছি শুনানির জন্য।

তিনি বলেন, পপুলার হাসপাতাল ডেঙ্গু টেস্টের পুরানো ফি ১২০০ টাকা রেট দিয়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছিল। কিন্তু সরকার নির্ধারিত রেটের পর আবার ছাড়ের কিছু নেই। তাই জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ল্যাবএইড ও ইবনে সিনা হাসপাতালের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। তারা মঙ্গলবার এসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে, সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় ইবনে সিনা ও পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে এ ধরনের চিত্র লক্ষ্য করা যায়নি। এখানে সরকার নির্ধারিত সঠিক ফি গ্রহণ করতে দেখা গেছে।

এদিকে, রাজধানীর অখ্যাত ছোট হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু টেস্টসহ অন্যান্যের অতিরিক্ত ফি আদায়ের খবর শোনা গেছে। মিরপুর-১২ নম্বর এলাকায় রোকেয়া হাসপাতাল; একটি ভবনের দুইতলা পর্যন্ত চারটি ফ্ল্যাট নিয়ে এর কার্যক্রম চলে। এখানেও রয়েছে ডেঙ্গু রোগীর ব্যাপক চাপ।

এখানে ডেঙ্গু টেস্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ করে আসমা আক্তার নামে এক নারী বাংলানিউজকে বলেন, আমার ছেলের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিয়েছে মনে করে দ্রুত এই হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু টেস্টের রিপোর্ট দেখে জানতে পারলাম ওর ডেঙ্গু নেই। কিন্তু প্রতি টেস্টে ফি নিয়েছে সর্বনিম্ন এক হাজার ২০০ টাকা।

এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অনেক ছোট হাসপাতাল থেকেও।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বাংলানিউজকে বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষায় বেঁধে দেওয়া ফি ঠিকমতো আদায় হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে নজরদারি করতে অধিদপ্তরের ১০টি দল সোমবার থেকে মাঠে নেমেছে। পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ এবং বিষয়টি তদারকি করার জন্য ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।