সংরক্ষণের দাবি এলাকাবাসীর

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুরে ৫শ’ বছরের পুরনো মসজিদের সন্ধান

ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুরে ৫শ’  বছরের পুরনো মসজিদের সন্ধান

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার মেদনীসাগর গ্রামে প্রাচীন স্থাপত্যের একটি মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী এটিকে কাতারের গায়েবি মসজিদ হিসেবে উল্লেখ করছে। ঐত্যিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সরকারিভাবে এটি সংরক্ষণ করার দাবিও উঠেছে। এলাকার প্রবীনদের মতে, মসজিদটি সুলতানি আমলেরও আগে নির্মিত হতে পারে। মসজিদটির অবস্থান হরিপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে মন্নটুলী চৌরাস্তা থেকে বনগাঁওগামী পাঁকা সড়কের ডান পার্শ্বে মেদনীসাগর গ্রামে। এ মসজিদ নিয়ে নানান রূপকথা ও অলৌকিক গল্প কাহিনী রয়েছে। মসজিদটির নির্মাণ কাজ নিয়ে সঠিক কোন তথ্য না জানা গেলেও গ্রামবাসী ও এলাকার প্রবীনরা জানায়, এটি প্রায় ১৫০০ থেকে ১৬০০ শতকে নির্মাণ হতে পারে। দিল্লীর সুলতান ফিরোজ শাহ’র শাসনামলে তাঁর কমান্ডার খাঁন গাজী ও হযরত শাহ জালালসহ ৩৬০ জন আউলিয়ার প্রচেষ্টায় সিলেট জয়ের পর সিলেটের শাসক গৌর গোবিন্দকে পরাজিত করে পুত্র হযরত শাহ জালাল (রহঃ) সিলেট থেকে ইসলাম প্রচারের কাজ শুরু করে। এ সময় তারা ইসলাম প্রচারের জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করে। তাই এ সময়ও নির্মাণ হতে পারে এই মসজিদটি। এলাকার সবার কাছে এটি গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটির আকর্ষণ হচ্ছে বিশেষ নির্মাণশৈলীতে তৈরি ৩টি গম্বুজ ও চার কোণায় ৮টি মিনার সদৃশ্য বুরুজ।

গম্বুজ ৩টি ছাদ থেকে প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এবং ২ ফুট লম্ব চূড়া। ভূমি থেকে প্রতিটি বুরুজের উচ্চতা ১০ ফুট সুলতানি আমলের মিনারের মত। মসজিদটিতে একসাথে এক কাতারেই ৩০জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। বর্তমানে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ এখানে নামাজ পড়ে। মসজিদে জায়গার অভাবে মসজিদের মূল ভবনের সামনের অংশের সাথে সংযুক্ত করে নতুন ভবন সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মাটি খোঁড়ার সময় মসজিদের মূল ভবনের সামনে ৩-৪ ফুট নিচের দিকে ছাই, ইট, পাথর ও কয়লা পাথর পাওয়া যায়। এটির কাজ সম্পন্ন করা হলে এক সাথে প্রায় ২০০ জন মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবে। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আব্দুল্লাহিল বাকি বলেন, আমার বয়স ৩০ বছর। আমার বাপ-দাদারাও বলতে পারে না এটি কে কবে তৈরি করেছিল। এমনকি তাদের পূর্ব পুরুষরাও বলতে পারতো না এ মসজিদটির নির্মাণ রহস্য। আমরা এলাকার অনেকে গায়েবি এক কাতার মসজিদ বলেই জানি। স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান জফুর (১০০) বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষদের নিকট শুনেছি, এই মসজিদটির বয়স প্রায় ৪ থেকে ৫শ’ বছর হবে। এটি একটি প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন। আমরা গ্রামবাসী সকলে মিলে এর দেখভাল করি এবং মেরামত করে নামাজ পড়ি। উপজেলার গেদুড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, আমিও শুনেছি এটি গায়েবি মসজিদ। এর ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। এটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষণ করা উচিত।