ফসলি জমিতে পুকুর

ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ চাষে ঝুঁকছে কৃষক

ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ চাষে ঝুঁকছে কৃষক

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : জমিতে ফসল আবাদের পরিবর্তে পুকুর কেটে মাছ চাষে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক কৃষক। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বড় বড় পুকুর খনন করতে দেখা গেছে। মৎস্য বিভাগ এতে সহযোগিতা করলেও কৃষি বিভাগ খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা করেছেন। জেলার পাঁচটি উপজেলার সব ক’টি ফসলি জমিতে বড় বড় পুকুর খনন করা হচ্ছে। এ চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে সদর উপজেলার রায়পুর, ভেলাজান, চিলারং, আখানগর। এ ছাড়া বালিয়াডাঙ্গী এলাকার কালমেঘ, হরিণমারি, রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পুকুর খনন সর্বত্র।

জেলার কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ বছরে ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ চাষের কারণে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি কমে গেছে। ২০০৭ সালে এ জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৫ হাজার ১১১ হেক্টর। ২০১৯ সালে তা কমে দাঁড়ায় এক লাখ ৫০ হাজার ৮৪১ হাজার হক্টরে। সদর উপজেলার চুনিহারি গ্রামের মৎস্য চাষি সলেমান আলী বলেন, ধান চাষে কৃষিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তাছাড়া ধান আবাদে যে খরচ হয়, বাজারদরে তাতে লাভ তো দূরে থাক, চালানই ওঠে না। তাই আমি মাছ চাষে আগ্রহী হয়েছি”। বর্তমানে তিনি ১০ একর জমির পুকুরে মাছ চাষ করে বছরে খরচ বাদে পাঁচ লাখ টাকা লাভ পাচ্ছেন বলে জানান। সদর উপজেলার মোলানী গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস আলীসহ এলাকায় কয়েকজন মিলে ১১০ বিঘা জমি নিয়ে কয়েকটি বিশাল দীঘি খনন করে সেখানে মাছের খামার করছেন।

 এ জমিতে গত মৌসুমেও বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। গত ছয়-সাত বছর ধরে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে তারা তেমন লাভ পাননি বলে জানান। ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মুহ. নিয়াজউদ্দিন জানান, ধান উৎপাদন থেকে মাছ চাষে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক ধান বাদ দিয়ে মাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। আগে যে জমিতে ধান চাষ হতো এখন তারা সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছেন। ধান চাষ করে যে লাভ হয় মাছ চাষে তার থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি লাভ হয় বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন  জানান, কৃষক এখন অতি লাভের আশায় পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে আবাদি জমির পরিমাণটা কমে যাচ্ছে। তবে কৃষকরা দেখছেন নগদ লাভের দিকটা।