ঠাকুরগাঁওয়ে ভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু, যাচ্ছে মেডিকেল টিম

ঠাকুরগাঁওয়ে ভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু, যাচ্ছে মেডিকেল টিম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২০ দিনের মধ্যে বাবা-মা ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার সকাল থেকে উপজেলা ভান্ডারদহ নয়াবাড়ি গ্রামের প্রায় ৬-৭ জন অসুস্থ হলে তাদের রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, মস্তিষ্ক প্রদাহ (Encephalitis) রোগে আক্রান্ত হয়ে এই পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এটি প্রথমে ব্রেইনে আক্রমণ করে। এই রোগে আক্রান্ত হলে মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে মারা যায়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফিরোজ জামান জুয়েলকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শের জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি মেডিকেল টিম এবং কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এ ঘটনার সঠিক কারণ নিরূপণ করতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ ও তিন সহকারীসহ ছয় সদস্যের একটি টিম বালিয়াডাঙ্গীর উদ্দেশ্যে সোমবার সকালে রওনা দিয়েছেন। তারা রংপুর হাসপাতালে মৃত মেহেদীর মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করবেন বলেও জানান সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শাহজাহান নেওয়াজ।

এলাকাবাসী জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারি নয়াবাড়ি গ্রামের ফজর আলীর ছেলে তাহের আলী (৫৫) রহস্যজনকভাবে মারা যান। এ ঘটনার ১১ দিন পর ২০ ফেব্রুয়ারি একইভাবে মারা যান জামাতা হাবিবুর রহমান (৩৫) এবং পরদিন মারা যান তাহের আলীর স্ত্রী হোসনে আরা (৪৫)। এর দুইদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তার দুই ছেলে ইউসুফ আলী (৩০) ও মেহেদী হাসানও (২৪) মারা যান।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোর্শেদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, একই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মৃত ইউসুফ আলীর স্ত্রী কোহিনুর, তার কন্যাসন্তান ও তার শ্বশুরকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে গতকাল রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তহিদুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মোতালেব একই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরকেও রংপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি আমরা। আশা করছি ঢামেক থেকে মেডিকেল টিমটি এলাকায় আসলেই রোগটি শনাক্তসহ এর প্রতিকার জানা সম্ভব হবে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার কর্মকর্তাসহ সবাইকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে। একই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে তাদের দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মাস্ক পরার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে, অজ্ঞাত ভাইরাসে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো উপায়ে এই রোগের প্রতিকার চান তারা।