ঠাকুরগাঁওয়ে বাঁশের তৈরী পণ্যেই চলে ৫০ পরিবার

ঠাকুরগাঁওয়ে বাঁশের তৈরী পণ্যেই চলে ৫০ পরিবার

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছে ৫০টি পরিবার। আমন ধান, আলু তোলার মৌসুমসহ বিভিন্ন ফসলাদি উত্তোলনের সময়গুলোতে ডালি, কুলা, ঝাড়–’–সহ বিভিন্ন বাঁশের পণ্য দিয়েই চালাচ্ছে সংসার। স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি পরিবারের সবাই ব্যস্ত থাকে এ কাজে।বাঁশের দাম বাড়ার কারণে এখন পাঁচশ’ টাকার বাঁশ কিনে সেই বাঁশ দিয়ে পণ্য তৈরির পর ১ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করা যায় না। এতে দুজনকে সারাদিন পরিশ্রম করতে হয়। মজুরীর টাকা বের করা সম্ভব হয় না আর। কথাগুলো বলছিলেন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামের বাঁশমালি গোলাপ রায়।

গোলাপ রায়ের স্ত্রী দিপ্তী রাণী রায় বাড়ির পার্শ্বের রাস্তায় কাস্তে ও দাঁ দিয়ে বাঁশ কেটে বাতা তৈরি করছেন। সেই বাতাগুলো দিয়ে তার স্বামী হাসঁ-মুরগি রাখার খাঁচা ও টোপাসহ অন্যান্য পণ্য তৈরি করছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করছেন তাদের দুই সন্তান । গোলাপ রায় জানান, বাঁশের তৈরি পণ্য বিক্রি করেই অতিকষ্টে ছেলেকে পড়ালেখা করাচ্ছি। ছেলে এবার অনার্স ৩য় বর্ষে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের ছাত্র। তবে কালের বিবর্তনে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বাজারে আসার কারণে কমে গেছে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা। অন্যদিকে প্লাস্টিক পণ্যের দাম বাঁশের তৈরি পণ্যের চেয়ে অনেক কম।

ওই এলাকার বাঁশমালি খুদিরাম শাহা জানান, বাঁশের তৈরি পণ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানা নেই আমার। তাই পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এটা করতে হচ্ছে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিলে এ এলাকার পরিবারগুলো আরও ভালো পণ্য তৈরি করে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শাফীয়ার রহমান বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমবায় অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন সময়ে কারিগরী প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে থাকেন এলাকার কৃষক ও বিভিন্ন শ্রমজীবি মানুষ। আগামীতে বাঁশমালীদের দক্ষতা উন্নয়ণে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।