টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা জারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা জারি, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

টাঙ্গাইলে শহরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে জেলা প্রশাসনের টানা তিন দিনের ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা শহরের অধিকাংশ প্রবেশদ্বারে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে যানবাহন তল্লাশি।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল থেকে শহরের নিরালার মোড়, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, কলেজ গেট, ডিস্ট্রিক্ট গেট, নতুন বাসস্ট্যান্ড, বটতলা, মেইন রোড, বেবিস্ট্যান্ড, শান্তিকুঞ্জ মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে, বুধবার (২০ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে ১৪৪ ধারা জারি করে শহরে মাইকিং করা হয়।

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা তিনদিন এ ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহিদুল্লাহ।

টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, আওয়ামী লীগের দু গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আছে। যে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু জায়গায় চেকপোস্টও বসানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বড় ভাই আমিনুর রহমান খান বাপ্পীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে টাঙ্গাইলের রাজনীতি। খান পরিবারের কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তাদের বিরোধীপক্ষ। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৩ সালের ২১ নভেম্বর সন্ত্রাসী হামলায় নিজ বাড়ির কাছেই খুন হন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বাপ্পী। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য রানার বড় ভাই এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। বাপ্পী হত্যা মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ এখন শেষ পর্যায়ে।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এবার ‘শহীদ আমিনুর রহমান খান বাপ্পী স্মৃতি সংসদ’র ব্যানারে খান পরিবার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার কবর জিয়ারত, বাপ্পী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শোক র‌্যালি এবং শুক্রবার বিকেলে শহীদ মিনারে আলোচনা সভা।

কিন্তু আওয়ামী লীগের খান পরিবার বিরোধী নেতাদের দাবি, বাপ্পীর মৃত্যুবার্ষিকীর এ কর্মসূচির মধ্যদিয়ে খান পরিবার তাদের অনুসারিদের আবার একত্রিত করছে। এরা টাঙ্গাইলকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আবার অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নীল নকশা রুখতেই পাল্টা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে ‘নির্যাতিত আওয়ামী পরিবারের’ ব্যানারে আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ বিচারের দাবিতে শহরের বিক্ষোভ ও শহীদ মিনারে সমাবেশ। পরদিন শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শহীদ মিনারে অটোরিকশা, অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে নতুন ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাবেশ। এছাড়াও শনিবার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।

দু’পক্ষই কর্মসূচি সফল করতে শহর ও আশেপাশের এলাকায় নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান থান রানা টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ায় তার নিজ বাসভবনে অবস্থান করে কর্মসূচি সফল করতে কাজ করছেন।
অপরদিকে, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভুঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনির, তার ভাই শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বড় মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পৌরমেয়র জামিলুর রহমান মিরন, প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল তৎপর খান পরিবার বিরোধী মিছিল-সমাবেশ সফল করতে। ফলে শহরে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে পুলিশ প্রশাসন ও শহরবাসী।

আমানুর রহমান খান রানার অংশের নেতা টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক লীগের সহসভাপতি আব্বাস আলী বাংলানিউজকে বলেন, কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের আলোচনা সভায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।

খান পরিবার বিরোধী অংশের নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও প্যানেল মেয়র সাইফুজ্জামান সোহেল বাংলানিউজকে বলেন, বাপ্পীর মৃত্যুবার্ষিকী পালনের নামে খান পরিবার আবার তাদের সন্ত্রাসীদের নিয়ে অপতৎপরতা শুরু করেছে। তাদের এই অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিহত এবং মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা কর্মসূচি নিয়েছি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার (ডিসি) সঞ্জিত কুমার রায় বাংলানিউজকে বলেন, জেলা শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো পক্ষকেই মিছিল সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার জন্য পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।