জ্বলতে থাকুক জীবনের বাতি

জ্বলতে থাকুক জীবনের বাতি

ফিদা হাসান (রিসলু) : সচেতন মানুষের আদর্শিক মননে বেজে উঠে যখন মেধার আগুনগীতি, তখনই তাকে প্রেষিত করে-আভিধানিক রাজনীতি। সমাজের বুকজুড়ে-সময়ের রথে চড়ে শ্রেণি-অবস্থানের এই দ্বান্দ্বিক জাগরণ হয়ে যায় তাই, চেতনার অবিসংবাদিত উন্মোচন। অংকুরিত সেই সবুজাভ দাহ-আগুন ঝরা রোদ্দুরে সোনালি হতে-হতে উদ্ভাসিত করে কারো-কারো ছাত্রজীবনের আলোকিত ভূবন। সে-ভূবনের একাদশে আমি যখন শুরুর কর্মি, হৃদরোগে মারাত্মক আক্রান্ত-সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তখন-বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি। সাধারণ সম্পাদক বাহালুল মজনুন চুন্নুর সাথে সেইসময়ের আলোচিত ছাত্রনেতা- জাসদ হয়ে বাসদ-ছাত্রলীগের মাহমুদুর রহমান মান্না (ডাকসু ভিপি), আখতারুজ্জামান (ডাকসু জিএস, পরে ভিপি), ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মো: ফারুক (ইউকসু ভিপি) কিংবা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশার (রাকসু ভিপি) মত পরিচিত ছাত্রনেতাদের মাঝে তিনি ছিলেন স্বকীয় ব্যক্তিত্বের এক অহং জাগানিয়া অধিপতি। এসএসসি কিংবা এইচএসসির যেকোন একটিতে বোর্ডসেরা-১৩ হয়ে স্বাধীনতা পরবর্তীকালের মনিরুল হক চৌধূরী আর শফিউল আলম প্রধান নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের এই দপ্তর সম্পাদক, ৭৫ পরবর্তীকালের নির্যাতন-নিপীড়নের কন্টকাকীর্ণ দিনগুলোতে কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখানে বসে লেখা তাঁর কারাগারের দিনলিপি পড়ে আমরা “মেঘ ক্ষণিকের-সূর্য চিরকালের” অভিধায় বঙ্গবন্ধু মুজিবের বিরামহীন প্রেমে অনলস বলে চলা এই প্যাশনিষ্ট ছাত্রনেতাকে যতটা চিনেছি, ততটা অবশ্য পাইনি।

তবে ছাত্র রাজনীতির দীর্ঘ পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে অনেকেরই মতন ব্যবসায়ীর তকমা সেঁটে বিত্তবিলাসের প্রথাগত পথে না-হেঁটে তিনি যুক্ত হলেন-সংবাদপত্রের সাথে। “দৈনিক বাংলার বাণী” পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে লিখিত তাঁর অসংখ্য নিবন্ধ, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির রসায়িত মিশেলে আর্থ-সামাজিক-রাজনীতির জংগলাকীর্ণ জলমহালে অবগাহিত করে-নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আমাদেরকে করেছে ঋদ্ধ।কলেজের একাদশে পাওয়া আর দ্বাদশে ছাত্রলীগ ছেড়ে চলে যাওয়া-তিনি ছিলেন আমাদের সংগঠিত দ্রোহের প্রথম অধিপতি। তারপর হতে-হতে হতে-থাকা অনেকেরই মাঝে তিনিই সেইজন, যিনি দীর্ঘ রাজনীতির পোড় খাওয়া পথে-পথে দলীয় প্রধানের অনুগতজন হিসাবে রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রথমসারিতে  থেকে নিপীড়ন-নির্যাতনের নানা অভিজ্ঞানকে সাথে নিয়ে প্রমাণ করেছেন নিজের সক্ষমতা। একইসাথে ২১ বছর পরে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দেখিয়ে দিয়েছেন নিজের দক্ষতা। রাজনৈতিক সক্ষমতার সাথে মন্ত্রণালয় চালানোর এই দক্ষতার যুগলসন্ধি, আগামীর পথে-পথে বিছায়ে দিয়েছে তাঁর সুরভীত গন্ধী। তাই বুঝি ৭৫ পরবর্তী অনেক-অসংখ্য ডাকসাইটে ছাত্রলীগ নেতাদের মাঝে তিনিই একমাত্র, যিনি শুধু সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীই নন, হয়েছেন-আওয়ামী লীগের মত স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী গণসংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।

এমনি এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সমৃদ্ধ নেতার পায়ে পা-মিলিয়ে একদা তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে, আমি তখন বগুড়ার সরকারি আযিযুল হকের মিছিলে তৎকালীন কলেজ ছাত্রলীগের জনপ্রিয় নেতা প্রয়াত আইনুল হক সোহেল, টি জামান নিকেতা, প্রয়াত কাদের সরকার, মনসুর রহমান মুন্নু, আব্দুর রহমান বাবু প্রমুখদের সাথে শ্লোগান ধরেছি একই সুরে- এক মুজিব লোকান্তরে/লক্ষ মুজিব ঘরে-ঘরে।উপমহাদেশ খ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠীর পরামর্শক্রমে বর্তমানে সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তরিত হৃৎ-ব্যাধিতে মারাত্মক আক্রান্ত মুখপানে তাঁর-তাইতো আজ ব্যাথিত বেদনে অপলক দেখি: বিপন্ন  নীলিমায় ফাল্গুনী সেইসব স্মৃতি। জোসনার মত ঝরে ঝরে পড়তো-যার কথার সুরেলা, সেখানে দেখছি আজ-দারুন খরা। দেশ-বিদেশের সেরাতমদের নিবিড় পরিচর্যা আর ইতিহাসের আলো বেয়ে পথচলা মানুষদের কাছে প্রবল প্রত্যাশিত-তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবার এই অহর্নিশ আকুতি, মহান রাব্বুল আলামিনের সদয় সম্মতি নিয়ে নিশ্চয় তিনি জ্বালিয়ে রাখবেন জীবনের বাতি।
লেখক ঃ প্রাবন্ধিক
০১৭৩১-৪৮২৮৮৭