জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনের একজন আসাদুল্লাহ

জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু’জনের একজন আসাদুল্লাহ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয় হত্যাকাণ্ডে মোট ১৩ জন জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন দু’জন, এদের একজন ছিলেন আসাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দিনগত রাতে টঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল্লাহকে (২৫) গ্রেফতার ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এই গ্রেফতারের ফলে এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫ জনকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলহাজ ও তনয় হত্যাকাণ্ডে ৭ জন অংশ নেয়। তারা হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নিয়ে টঙ্গী থেকে প্রথমে কলাবাগান আসে। এরপর কলাবাগানে জুলহাজের বাসার পাশের একটা মসজিদে নামাজ পড়া শেষ করে হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

সাতজনের মধ্যে পাঁচজন অপারেশনে অংশ নেয় এবং বাকি দু’জন বাইরে থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছিল। ওই পাঁচজনের মধ্যে আসাদুল্লাহ ও আরাফাত সরাসরি হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

জড়িতরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবশেষ গ্রেফতার আসাদুল্লাহর বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে। সে যশোর পলিটেকনিকে পড়াশোনা করেছে। আসাদুল্লাহার বাবা ছিলেন জামায়াতের রুকন পর্যায়ের নেতা। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদানের আগে ২০১৫ সালে যশোরের নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন আসাদুল্লাহ।

২০১৬ সালে উত্তর বাড্ডায় এক পুলিশ সদস্যকে আহত করে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার সঙ্গে আসাদুল্লাহ সরাসরি জড়িত ছিল। জুলহাজ ও তনয়ের হত্যাকাণ্ড ছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ২০১৬ সালের শেষ অপারেশন।

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার দাওরা প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আসাদুল্লাহ। সংগঠনে ফখরুল, ফয়সাল, জাকির, সাদিকসহ একাধিক নামে পরিচিত তিনি।