জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ছে

জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়ছে

মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় দ্রুতগতিতে উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। মানুষের জীবন যাপনের স্বস্তি এবং বসবাসের স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে আয়-ব্যয় এর সমন্বয় জরুরি। এ ক্ষেত্রে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যদি জীবন যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায় তবে বিষয়টি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। মঙ্গলবার কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, দেশে জীবন যাত্রার ব্যয় ২০১৯ সালে আগের বছরের চেয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। সদ্য বিদায়ী ২০১৯ সালে আগের বছরের তুলনায় দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আরও বেশি, ৭১ দশমিক ১১ শতাংশ। বৃদ্ধির এই হার আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ২০১৯ সালে চালের মূল্য ছিল সহনীয় ও নিম্নমুখী। তবে বছর শেষে চাল, আটা, ডিম, শাক সব্জি সহ কিছু পণ্যের দাম ছিল উর্ধ্বমুখী। দেশে উৎপাদিত রসুনের দামও বেড়েছে। ২০১৯ সালে গড়ে শাক সব্জির দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। তরল দুধ বেড়েছে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া দেশি থানকাপড়, বিদেশি কাপড়, নারিকেল তেল, খেজুরের গুড়, ঘর ভাড়া ইত্যাদি দাম বেড়েছে।

তবে ভোজ্য তেল, লবণ, চিনি, সাবান, পান ও সুপারি ইত্যাদির পণ্যের দাম কমেছে। জীবন যাত্রার ব্যয় হু হু করে বাড়লেও আয় বৃদ্ধি না পাওয়ায় দেখা দিচ্ছে না অসন্তোষ। কর্মসংস্থানের গতি স্তিমিত হয়ে পড়ায় লাখ লাখ যুবক বেকার জীবন যাপন করছে। বিশেষত শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। আমরা মনে করি, দাম বৃদ্ধির যে বিষয়গুলো সামনে আসছে তা আমাদের আমলে নিতে হবে। জনসাধারণের সামর্থ্যরে সাথে নিত্য পণ্যের দাম সঙ্গতিপূর্ণ রাখতে উদ্যোগ বজায় রাখতে হবে। বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪২টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। কিন্তু দেশে ব্যাপকভাবে নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় কিছু ওষুধের উচ্চ মূল্য দরিদ্র রোগিদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। রাজধানীর অবস্থা এমন নাজুক হয়ে পড়েছে যে, একজনের আয়ে কোনো সংসার চালানো সত্যিকার অর্থে দায় হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগ থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে।