জালনোটের অশুভ চক্র

জালনোটের অশুভ চক্র

রোজা ও ঈদ ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে টাকার জাল নোটের কারবারিরা। চলতি মাসেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট। এ ছাড়া গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলে ধরা পড়েছে চার হাজারের বেশি জাল নোট, যার মূল্যমান ৩৪ লাখ টাকার বেশি। সবচেয়ে বেশি জাল হচ্ছে এক হাজার টাকার নোট। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। জাল নোট প্রতিরোধে এরই মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন টাকা বাজারে এলেই জাল নোটের কারবারিদের অপতৎপরতা বেড়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেও সক্রিয় থাকে জাল নোটের কারবারিরা। এর কারণ বিভিন্ন সময় ধরা পড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে যায় তারা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জাল টাকার প্রযুক্তি সহজলভ্য হয়েছে এবং অপরাধী ধরার পরেও যখন কঠোর শাস্তি হচ্ছে না, তখন অল্প সময়ের মধ্যেই সারা দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো জাল নোট তৈরির কারখানা গজিয়ে উঠলেও তাতের আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনটিতেই রমজানে নিত্য পণ্যের উচ্চ মূল্য নিয়ে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ। এর পাশাপাশি রমজানে জাল টাকা আতঙ্ক সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো বেশি বিপর্যস্ত করে তুলবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। জাল টাকার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে তাতে সাধারণ  মানুষও নিরাপত্তা বোধ করবে।