জামানত হারানোর ভয়, মেয়র পদে প্রার্থী অর্ধেকের কম

জামানত হারানোর ভয়, মেয়র পদে প্রার্থী অর্ধেকের কম

আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামানত হারানোর ভয়েই অনেকে প্রার্থী হতে চাননি।


নির্বাচন কমিশনের (ইসির) নির্বাচন পরিচালনা শাখা থেকে জানা গেছে, বিভক্ত ঢাকার দুই সিটির প্রথমবার একযোগে ভোট হয় ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। সেই নির্বাচনে ডিএনসিসিতে ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। আর ডিএসসিসিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল ২০ জন। সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ব্যতীত দুই সিটির ৩৪ জন প্রার্থীই জামানত হারিয়েছিলেন। সে সময় নির্বাচন হয়েছিল নির্দলীয়ভাবে। আর দু’টিতেই জয় পেয়েছিল আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী।

এবারের দুই সিটির ভোটের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন দলের মাত্র ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে উত্তরে রয়েছে সাত জন আর দক্ষিণে সাত জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী।

ইসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মনে করছেন, ঢাকা সিটিতে ভোটার ২০ লাখের বেশি হওয়ায় জামানত দিতে হয় ১ লাখ টাকা। আর ভোটার তালিকার সিডি কিনতে আরও জমা দিতে হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে কোনো কিছু না করলেও ঢাকায় মেয়র প্রার্থীকে অন্তত দেড় লাখ টাকা গচ্চা দিতে হবে, যদি জামানত হারান।

তাদের মতে, ২০১৫ সালে নির্দলীয় নির্বাচন হয়েছে। তখনই আওয়ামী লীগ, বিএনপির সমর্থনের বাইরে কেউ সুবিধা করতে পারেনি। এবার দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে। এতে অন্য দলের প্রার্থীদের শঙ্কা থাকারই কথা। সে সময় চিত্রনায়িকা কবরী আওয়ামী লীগের সমর্থন না পাওয়ায় বৈধ হওয়ার পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন।

উত্তরে মেয়র পদে জামানত হারিয়েছিলেন- আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, চৌধুরী ইরান আসাদ সিদ্দিকী, নাদের চৌধুরী, বাহাউদ্দিন আহমেদ সরকার, মাহী বি চৌধুরী, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, মো. আনিসুজ্জামান খোকন, মো. জামান ভূঁইয়া, মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, মো. শামসুল আলম চৌধুরী, ফজলে বারী মাসউদ ও শেখ শহিদুজ্জামান। 

আর দক্ষিণে জামানত হারিয়েছিলেন- আবদুর রহমান, এএসএম আকরাম, আবু নাছের মুহাম্মদ মাসুদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন, এস এম আসাদুজ্জামান রিপন, দিলীপ ভদ্র, বজলুর রশীদ ফিরোজ, মশিউর রহমান, মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী, হাজি মো. সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ, মো. আবদুল খালেক, মো. গোলাম মাওলা রনি, মো. জাহিদুর রহমান, মো. বাহারানে সুলতান বাহার, মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, মো. শহীদুল ইসলাম ও শাহীন খান।

ডিএনসিসি’র সাবেক মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ৫ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তখন দলীয়ভাবে ভোট হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জয়ী হন। আর জামানত হারান- জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাফিন আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার ৪১(৩) অনুসারে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে। আর এই বিধানের বলেই আগের নির্বাচনগুলোতে প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করে নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ আগের নির্বাচনগুলোতে জামানত বাজেয়াপ্তদের কেউই প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট পাননি।

বিভক্ত ঢাকার দুই সিটির মেয়র নির্বাচনে প্রথমবার একযোগে দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জানুয়ারি। এবার বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ১৩জন।

উত্তর সিটিতে ছয় বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল, সিপিবির সাজেদুল হক, পিডিপির শাহীন খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলে বারী মাসউদ এবং এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান।

দক্ষিণ সিটির সাত বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুর রহমান, এনপিপির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

এবার দুই সিটিরতেই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন।