জাফর ইকবালের ওপর হামলা

জাফর ইকবালের ওপর হামলা

দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক এবং সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে দেশবাসী। গত শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পুলিশের উপস্থিতিতেই পেছন থেকে তার মাথায় ছুরি মারে স্থানীয় এক যুবক। অসংখ্য তরুণের প্রিয় এই লেখক ও শিক্ষক এখন রাজধানীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা একজন বিবেকবান লেখক ও সাহিত্যিকের ওপর এই বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীকে গ্রেফতার করে এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

জাফর ইকবাল কেবল গবেষণা, অধ্যাপনা বা লেখা লেখিতে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখেননি। মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সন্তান হিসেবে তিনি দেশ ও মানুষের প্রতি তার দায় কখনো ভোলেননি। নানা কারণেই তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। যার অবস্থান সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ভূমিকার কারণে তিনি নানা সমীকরণে বিরুদ্ধতার শিকার। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার প্রতিবাদে সারাদেশে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে। সারাদেশ থেকে কীভাবে জঙ্গিদের মূলোৎপাটন করা যায়, সরকারের কর্তব্য হওয়া দরকার সে ব্যাপারে নীতিগত কৌশল গ্রহণ। আমরা আশা করব এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনার সব চেষ্টা করা হবে। কেননা এ হামলা শুধু ফয়জুর একা নিজে থেকে করেছে তা কিন্তু নয়। এর পেছনে রয়েছে প্রগতিবিরুদ্ধ শক্তি। সরকারকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত চালানোর সুযোগ দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আসুক-এটিই প্রত্যাশা।