জাপানে চোখ রাঙাচ্ছে টাইফুন ‘ত্রামি’, ৪শ’ ফ্লাইট বাতিল

জাপানে চোখ রাঙাচ্ছে টাইফুন ‘ত্রামি’, ৪শ’ ফ্লাইট বাতিল

একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে বৈরি সময় পার করছে জাপান। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় ‘জেবি’র কবল থেকে রক্ষার মাস না পেরুতেই আবারো ঝড়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে সূর্যোদয়ের দেশটি। ঝড়টি এরইমধ্যে ক্যাটাগরি-৩ শক্তি সঞ্চয় করেছে, যা সর্বোচ্চ ৫ পর্যন্ত শক্তি নিয়ে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

বছরের ২৪তম সামুদ্রিক এই ঝড়ের প্রভাবে এরইমধ্যে বৃষ্টিপাত ও তীব্র বাতাসে বাতিল করা হয়েছে প্রায় চারশ’ ফ্লাইট। ভেঙে পড়েছে গাছপালা, দেয়াল। এতে ওকিনাওয়া শহরে ৫ জন আহতের খবরও মিলেছে। এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে মিয়াকোজিমা দ্বীপের অন্তত ৩০টি শহর বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর দিয়েছে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএইচকে।

সামুদ্রিক ঝড় ‘ত্রামি’ ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার বেগে বাতাস নিয়ে শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওকিনাওয়ার উত্তরে আঘাত হানতে পারে। এরপর রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) নাগাদ কাইশু ও হনশুর মূল ভূ-খণ্ডে আঘাত হানবে। ‘জেবি’ যে পথে আঘাত হেনেছিলো ‘ত্রামি’র গতিপথও একই বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে ঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়াতে করণীয় নির্ধারণ করেছেন। সংগ্রহ করছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ঝড়ের গতিপথ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে লোকজনকে।

এর আগে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ‘জেবি’র আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয় জাপান। ঝড়টি ছিলো গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। এছাড়া এর প্রভাবে যে উচ্চতায় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তা ছিলো ১৯৬১ সালের পর সর্বোচ্চ। এতে ওসাকার কানসাই বিমানবন্দরের রানওয়ে পানিতে তলিয়ে গিয়ে কয়েকদিন ফ্লাইট ওঠানামা পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

২০১৮ সালের শুরুতে জাপানে রেকর্ড বৃষ্টিতে দুইশতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়। যদিও তার আগে খরায় দুর্বিষহ সময় পার করেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রের দেশটির মানুষ।

এছাড়া চলতি সেপ্টেম্বরেই জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইদুতে ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৪০ জনের প্রাণহানি হয়।