জাতীয় ঐক্যের ডাক

জাতীয় ঐক্যের ডাক

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায় বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি, সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব। দেশকে নিয়ে যেতে চাই অনন্য উচ্চতায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন সহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার এই ভাষণ এক যোগে প্রচার করে। চতুর্থ দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে এটা তার প্রথম ভাষণ। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োচিত আহবানকে আমরা সর্বান্তকরণে স্বাগত জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে যে ছয়টি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়েছেন, তার মধ্যে শেষেরটি অর্থাৎ উন্নয়নই কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়। বাকিগুলো মূলত চেতনায় ধারণা ও চর্চার বিষয়। তার গত দুই আমলে বাংলাদেশের উন্নয়ন দেশে-বিদেশে সবার নজরে পড়েছে। এ ধারায় আগামীতেও উন্নয়ন হবে এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সব মহল। একাদশ সংবাদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধী দল ও জোটের মধ্যে যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে তা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একটি মেসেজ রেখেছেন। তিনি প্রতিপক্ষ দলের ক্ষোভ নিরসনে আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, সংখ্যায় ‘কম হলেও’ বিরোধী দলের নির্বাচিতদের শপথ নিতে আসা উচিত। তাদের প্রস্তাব ও সমালোচনার ‘যথাযথ মূল্যায়ন’ করা হবে। জাতীয় সংসদই হবে সব সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র বিন্দু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির মূলোৎপাটনের সঙ্গে সুশাসন ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন তার ভাষণে। সব মিলিয়ে বলা যায়, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হলো। আমরা আশা করি সর্বত্র আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে। প্রধানমন্ত্রীর আহবানকৃত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি আরো সমৃদ্ধির পথে এগুবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।