জাতিসংঘ বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারিতে জলবায়ু পরিবর্তন

জাতিসংঘ বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারিতে জলবায়ু পরিবর্তন

রায়হান আহমেদ তপাদার : পৃথিবীর বিশেষ কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠী নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে পড়েছে সারা বিশ্বের মানুষ? বিশেষত গত ২০ বছরে এই প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে আমেরিকা মহাদেশেও? বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (সিআরআই)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হন্ডুরাস, তারপরেই আছে মিয়ানমারের নাম? গেল ২০ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কুফলে মারা যায় ৫ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ এবং ৩ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (পিপিপিতে) ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে? আর এর সরাসরি ফলাফল হিসাবে আবহাওয়া বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে ১১ হাজারটি ইউএনইপি অ্যাডাপ্টেশন গ্যাপ’-এর  ২০১৩ সালের রিপোর্টে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বা ফলাফলের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক খরচের পরিমাণ এখনকার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে যাবে? আর বর্তমানে যা ধারণা করা হচ্ছে, তার চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ বাড়বে ২০৫০ সাল নাগাদ? অন্যদিকে ঐ রিপোর্টটিতে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বাড়ার সীমা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার ওপর জোর দেয়া হয়েছে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি নিশ্চিতকরণের জন্য জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা, কার্বন নিঃসরণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ বন্ধে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে অর্থ বরাদ্দে আজও তেমন সাফল্য অর্জিত হয়নি। অপরদিকে আইনি কাঠামো বাস্তবায়নে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যে আসেনি অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলো। অথচ ২০১৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার জন্য বাধ্যতামূলক চুক্তিরও সিদ্ধান্ত ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোকে সাহায্য প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা লাঘবে অধিকমাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী ও উন্নত দেশগুলোকে অভিযোজন কার্যক্রমে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এর আগে মেক্সিকোর কানকুন সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি আইনি বাধ্যবাধকতা মূলক চুক্তিতে পৌঁছানো, অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনা এবং পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এছাড়াও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্য নির্ধারণে ধনী দেশগুলো ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ শতকরা ৪০ ভাগ কমিয়ে আনার কথা ছিল। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে এক অঙ্গীকারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি যাতে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে কম থাকে সে ব্যাপারে সব দেশ একাত্মতা ঘোষণা করে। চুক্তিতে আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে এনে কোপেনহেগেন ‘গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড’ গঠনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব উদ্যোগ উষ্ণায়ন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। জলবায়ুবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের (আইপিসি) সম্প্রতি রিপোর্টে উল্লেখিত জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের একটি প্যানেল হুঁশিয়ার করেছে, মানুষের নানা কর্মকান্ডের পরিণতিতে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে দ্রুত সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং প্রতিনিয়ত বরফ গলছে।
এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফের আচ্ছাদন বিলীন হওয়ার কারণে কার্বণ নিঃসরণের মাত্রাও বেড়ে চলছে। বিভিন্ন জীবজন্তুর আবাসস্থল বদলাচ্ছে। এই শতকের শেষ ভাগে যদি বিশ্বের তাপমাত্রা ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় তবে তার পরিণতি কী হতে পারে সে বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এর আগে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত রিপোর্টের ভীতিকর দিক হচ্ছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সমুদ্র এবং বরফে আচ্ছাদিত অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলার ফলে প্রাণিজগতের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মানুষের নানা কর্মকান্ডে পরিবেশে যে বাড়তি তাপ তৈরি হচ্ছে তার ৯০ শতাংশই শুষে নেয় সাগর। ১৯৯৩ সাল থেকে শুষে নেওয়ার এই মাত্রা দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে গলছে অ্যান্টার্কটিকা এবং গ্রিনল্যান্ডের বরফও। দেখা গেছে, ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত যে হারে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলছে তা তার আগের ১০ বছরের তুলনায় তিন গুণ। জানা যায়, সারা বিশ্বে এক লাখ ৭০ হাজার হিমবাহ রয়েছে, যা পৃথিবীর সাত লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গাজুড়ে বিদ্যমান। এ থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার ৭ সেন্টিমিটার। বিশেষ করে, আন্দিজ, মধ্য ইউরোপ ও উত্তর এশিয়ায় যেসব হিমবাহ রয়েছে, সেগুলোর বরফ ২১০০ সাল নাগাদ ৮০ শতাংশ গলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এসব বরফগলা পানি গিয়ে পড়বে সাগরে। ফলে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমেয়। তবে আইপিসির শেষ রিপোর্টে জানা যায়, ২১০০ সাল নাগাদ সাগর পৃষ্ঠের উচ্চতা ১.১ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা আগের ধারণার চেয়ে ১০ সেন্টিমিটার অধিক। আর তা হলে মারাত্মক পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বিশ্বের এক ডজনের বেশি বড় বড় শহর। পরিবেশবাদীদের আশঙ্কা, সাগরের উচ্চতা বাড়লে নিচু উপকূলীয় এলাকার ৭০ কোটি মানুষ বিপদে পড়বে। এমনকি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। প্রাকৃতিক পরিবেশের আমূল পরিবর্তন আজ সহজেই চোখে ধরা পড়ে। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে এখন গ্রীষ্ম আর বর্ষা শুধু এ দুই ঋতুই যেন দৃশ্যমান, বাকিগুলো চাপা পড়ে গেছে বৈশ্বিক উষ্ণতার আড়ালে। শরতের স্নিগ্ধ আকাশের দেখা মেলে না একেবারে। যে আশ্বিনে শীতের আগমনীবার্তা শোনা যায়, সে সময়ে প্রচন্ড গরমে অস্থির মানুষ। প্রচন্ড খরতাপে পুড়ে ছারখার দেশ, জনজীবন হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত। চৈত্র থেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। আষাঢ়, শ্রাবণে ঘোর বর্ষাকালে বৃষ্টির দেখা মেলে না। বাংলাদেশের অনেক স্থানেই আটত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যায়। এসবই স্বাভাবিক নিয়মের ব্যত্যয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে প্রবল তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এল-নিনোর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশগত সমস্যা পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে প্রকট। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ম্যাপল ক্রফ্ট’ নামক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, ঘন জনবসতি, জীবিকার জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীলতা এবং দারিদ্র্যসহ নানা কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্বের বিচারে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা, পূর্বাঞ্চলের হাওর-বাঁওড়, উত্তরাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশের অবক্ষয়, পৃথিবীর উত্তাপ বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্ব নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এক আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্যমতে, ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ নিশ্চিত করে সামষ্টিক উন্নয়নে সাহায্য-সহযোগিতা বিনিময়, উন্নত বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ, জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ন্ত্রণসহ পরিবেশবান্ধব টেকসই উন্নয়ন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ক্ষরাসহিষ্ণু কৃষিপণ্য উৎপাদন, আধুনিক পদ্ধতিতে শস্য ও বীজ সংরক্ষণসহ কৃষিজমি রক্ষার্থে বনভূমি উজাড়, জলাধার ভরাট বন্ধ করা ভিন্ন কোনো বিকল্প নেই। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের জলবায়ু কর্মসম্মেলনে ‘গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’ (জিসিএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ একটি কার্বন অনিঃসরণকারী দেশ হিসেবে স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগ অর্থায়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান এবং বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের অঙ্গীকারে এমন একটি প্ল্যাটফর্মের সৃষ্টি করবে যেখানে উদ্ভাবনী ও অভিযোজনমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ জলবায়ু পরিবর্তনের সহযোগিতামূলক কার্যপ্রণালি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি হ্রাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো উন্নত বিশ্বের কাছে নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রশ্নে বিশ্বের ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভিযোজন প্রক্রিয়ায় এবং বিকল্প জ্বালানির সন্ধানে সহায়তার লক্ষ্যে উন্নত বা তুলনামূলক ধনী দেশ ২০২০ সাল থেকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থ সহায়তা এবং এই অর্থের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধির যে প্রস্তাব রয়েছে তা বাস্তবায়ন আবশ্যক।
আগামীতে নিউইয়র্ক এবং সাংহাইয়ের মতো উন্নত নগরগুলো সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে ঝুঁকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, সাগরের তাপমাত্রা বাড়লে আবহাওয়াও দিন দিন বিরূপ আচরণ শুরু করবে। জলোচ্ছ্ব্াস, ঘূর্ণিঝড়ও বেড়ে যাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের বেশকিছু জায়গায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও করছেন বিজ্ঞানীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্তি নেই স্থল ভাগের খুব ভেতরে বসবাসরত মানুষগুলোর। বন্যায় ক্ষতির মাত্রা বেড়ে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ হয়ে যেতে পারে। সাগরের ৯০ শতাংশ প্রবাল বিলীন হতে পারে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে। মাছের শরীরে পারদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, জলজ প্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বাড়তি তাপ। সাগরের তাপমাত্রা কমিয়ে রাখতে এখনও রয়েছে বেশকিছু করণীয়। তার জন্য কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমপক্ষে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো দাবদাহ, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও উপকূলীয় এলাকায় বন্যা, যা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে? বিভিন্ন দেশের সরকারের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির ২০১৪ সালের মূল্যায়নে এই বিষয়গুলো উঠে আসে? ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বড় অংশে দাবদাহ ক্রমাগত বাড়ছে? একইভাবে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ভারী বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেড়েছে এবং কিছু দিন পরপরই বিশ্বের নানা জায়গায় একই উদাহরণ সৃষ্টি হচ্ছে? বিজ্ঞানীদের নানা গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা জাপানের মতো ধনী দেশগুলোর এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়তো তাদের খুব একটা গায়ে লাগবে না? কিন্তু দরিদ্র কোনো দেশের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির কথা একবার ভেবে দেখুন! এই টাকা তাদের বার্ষিক জিডিপির একটি বড় অংশ? কাজেই তাদের অর্থনীতির ওপর কেমন প্রভাব পড়বে! আর ঘুরে ফিরে সেই দেশের মানুষের ওপরই তো গিয়ে পড়ে সব ভোগান্তি? তাই এসব ব্যপারে বিশ্ব রাজনীতিকদের জোরালো ভূমিকা আছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত।
লেখক ঃ শিক্ষাবিদ-কলামিস্ট
[email protected]