জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু তখনও পাকিস্তানের কারাগারে। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। মুজিব নগর সরকারে বঙ্গবন্ধু ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট। বিজয়ের পরে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরলে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় তিনি হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানে বন্দী থাকাকালীন সময় উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ, আতঙ্কে, সংশয় আর দোলাচলে তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলার মানুষসহ বিশ্ববাসী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা মুকুটহীন সম্রাট কখন মুক্ত হবেন পাকিস্তানি জিন্দাখানা থেকে। ফাঁসির আদেশ দিয়ে পাক সামরিক বাহিনী হত্যার সব আয়োজন সম্পন্ন করলেও বিশ্ববাসীর চাপে আর তা পেরে ওঠেনি। বাংলাদেশ হানাদারমুক্ত হওয়ার পর বাইশ দিন পেরিয়ে যায়, তবুও তার স্থপতি, তার প্রতিষ্ঠাতা ফেরেনি।

 সারা বিশ্ব তাকিয়ে বাঙালির মতোই কখন মুক্ত হবেন দীর্ঘ নয় মাস ধরে নিঃসঙ্গ কারাবন্দী বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা, ভাই, বন্ধু, পিতা, স্বজন, পুরো বাঙালি জাতির আশা ও বাসনাকে একটি বিন্দুতে মিলিয়েছিলেন তিনি। তারই আহবানে, তারই ডাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই করেছে। যে স্বাধীনতা ও মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ত্রিশ লাখ প্রাণের আত্মাহুতিতে আর তিন লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে সেই দেশকে স্বাধীন করেছে। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ছিল বাঙালি জাতির এক উজ্জল উদ্ধার। মুক্ত হলেন বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির কান্ডারি শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর মুক্তি সারা বাংলাদেশের সেদিনের চিত্র আজকের বাস্তবতায় উপলব্ধি করা কঠিন।