জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নানাভাবেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি। জলবায়ু পরিবর্তন পরিবেশ ভারসাম্য হারাচ্ছে। পুরো বিশ্বে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সারা পৃথিবী উদ্বিগ্ন এখন বিষয়টি নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, কীভাবে প্রকৃতির বিচিত্র আচরণকে সামাল দেয়া যায় এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। যতটা আন্তরিকতা ও উদ্বিগ্নতা নিয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সে কর্মপন্থা অনুসরণ করা উচিত- তা করছে না বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থেকে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় নিচু জমিগুলো নোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ভূ-গর্ভে নোনা পানির অনুপ্রবেশ ক্রমে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়ার আলামত শুরু হয়ে গেছে। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। সারা দেশের কৃষি ও জীবন যাত্রায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের এই অভিঘাতগুলো আমরা আটকাতে পারবনা কিন্তু প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারব। বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এসব দেশে শিল্পায়ন নগরায়নের ফলে পরিবেশে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কার্বন ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ দেশগুলো। আর এর শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলো। তাই আসন্ন এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়কেও এগিয়ে আসতে হবে। এ সমস্যা কোনো দেশের একার সমস্যা নয়, এ সমস্যা সারা পৃথিবীর। তাই এ সমস্যা মোকাবেলায় সহযোগিতার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকতে হবে ধনী-গরিব সব দেশকেই।