জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের অপপ্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত নানাভাবেই আমরা প্রত্যক্ষ করছি। উপকূলীয় এলাকার নিচু জমিগুলো নোনা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ভূ-গর্ভের নোনা পানির অনুপ্রবেশ ক্রমে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ প্রক্রিয়ার আলামত শুরু হয়ে গেছে। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। সারা দেশের কৃষি ও জীবনযাত্রা তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই অভিঘাতগুলো আমরা আটকাতে পারবনা কিন্তু প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারব। সেখানেই রয়েছে আমাদের ব্যর্থতা ও দূরদর্শিতার অভাব। বিশ্ব ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সমীক্ষা-২০১৭’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ু, পানি ও কাজের পরিবেশের দূষণ এবং শিশুদের ওপর ভারী ধাতু সিসার প্রভাবে যে পরিমাণ ক্ষতি হয় তা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশের পরিবেশ। এতে ক্ষতির পরিমাণ ৪২ হাজার কোটি টাকা। আর ভয়ঙ্কর প্লাস্টিক দূষণে বছরে বছরে ক্ষতি হয় ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় শুধু তহবিল নয়, প্রয়োজন সদিচ্ছা, দূরদর্শিতা, সঠিক পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন। বিশ্বের আবহাওয়াকে উষ্ণ ও অসহিষ্ণু করার পেছনে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কোনো দায় না থাকলেও তাদের অস্তিত্বের সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ঢাকার পরিবেশ দূষণের কারণে মানুষ দিন দিন বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ও মারা যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণের কারণে অধিক হারে মানুষ অ্যাজমা ও নানা রকম অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের কারণে সংক্রামক রোগের হার বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌছে গেছে। আমরা আশা করি আর কালবিলম্ব না করে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে তৎপর হবে।