জর্জিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূত

জর্জিয়ার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন সাবেক ফরাসি রাষ্ট্রদূত

করতোয়া ডেস্ক : জর্জিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচত হলেন একজন নারী। তার নাম সালোম জুরাবিশভিলি। তিনি ফরাসি নাগরিক এবং একসময় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিসেবে জর্জিয়াতে দায়িত্ব পালন করেছন। সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তিনি জর্জিয়ার প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন।জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট গণনা প্রায় শেষ। এ অবস্থায় জানা গেছে, জুরাবিশভিলি ৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রিগোল ভাশাজে পেয়েছেন ৪০ শতাংশ। জুরাবিশভিলিকে সমর্থন করেছিল সরকারি দল ‘জর্জিয়ান ড্রিম পার্টি।’ আর ভাশাজে ছিলেন সম্মিলিত বিরোধীদের সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থী।জুরাবিশভিলের (৬৬) জন্ম ফ্রান্সের প্যারিসে। রাশিয়া ১৯২১ সালে জর্জিয়া দখল করে নিলে তার বাবা–মা পালিয়ে ফ্রান্সে চলে গিয়েছিলেন।

 তিনি ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে নিয়োগ করা হয়েছিল জর্জিয়ায়। ২০০৩ সালে ফরাসি কূটনীতিক হিসেবে জর্জিয়াতে দায়িত্ব পালন শুরু করলেও পরে তিনি সেখানে ইস্তফা দেন। সেসময় জার্জিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখেইল সাকাশভিলি তাকে জর্জিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। জর্জিয়ার এবারের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত জুরাবিশভিলি বলেছেন, তিনি জর্জিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করবেন। ২০০৮ সালে জর্জিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া সংঘাতের সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাশাজে  জর্জিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় তার ভূমিকার জন্য সংশ্লিষ্টরা তাকে পশ্চিম ঘেঁষা মনে করেন। অন্যদিকে জুরাবিশভিলিকে সমর্থ দিয়েছে যে ড্রিম পার্টি তার প্রতিষ্ঠাতা বিজিনা ইভানিশভিলি তার শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অর্জন করেছেন রাশিয়ায় ব্যবসা করে।

শুধু প্রথবারের মতো নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার জন্য নয়, অন্য আরও একটি কারণে এই নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি ভোটের বিধান রদ হতে যাচ্ছে জর্জিয়ায়। অর্থাৎ জুরাবিশভিলি শুধু প্রথম নারী প্রেসিডেন্টই নন আপাতত শেষ প্রেসিডেন্টও যিনি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। জর্জিয়ায় গত বছর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় আওতায় ঠিক করা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের পদ হবে মূলত আলংকারিক। তবে জুরাবিশভিলির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন, তার মেয়াদকাল থেকেই প্রেসিডেন্ট পদটি আলংকারিক হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ছিলেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। শেষ পর্যন্ত জুরাবিশভিলি নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে ২০২০ সালে জাতীয় নির্বাচন কেমন হতে পারে।