পঞ্চগড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনন্য উদ্যোগ

জমানো লক্ষাধিক টাকা একসাথে পেল পঞ্চম শ্রেণির ৫১ শিক্ষার্থী

জমানো লক্ষাধিক টাকা একসাথে পেল পঞ্চম শ্রেণির ৫১ শিক্ষার্থী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: স্কুলে যাওয়ার সময় সব বাবা-মা হাত খরচের জন্য সাধ্যমত সন্তানদের হাতে কিছু টাকা তুলে দেন। শিশুদের সেই হাতখরচ থেকে কিছু টাকা সঞ্চয় করে লক্ষাধিক টাকা জমেছে। আর এই ব্যতিক্রমী অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ওই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ৫১ জন শিক্ষার্থীর হাতে তাদের জমানো এক লাখ ১১ হাজার ৪শ’ ৯০ টাকা তুলে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ১০৫ টাকা ফেরত পায় লৌভন নামের এক শিক্ষার্থী। আদিব ও রোদেলা পায় ৬ হাজার ২২০ টাকা করে। ন্যূনতম দুই হাজার টাকার নিচে পায়নি কোনো শিক্ষার্থী। টাকা বিতরণের সময় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিন্নাজ আলী, প্রধান শিক্ষক নূর আজম’সহ স্কুলের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থী লৌভন জানায়, আমি স্কুলের আসার সময় বাবা আমাকে খাওয়ার জন্য ১০ থেকে ২০ টাকা করে দেয়। সাথে দুপুরে খাওয়ার জন্য টিফিনও স্কুলে নিয়ে আসি। স্যারদের কথামত আমি বাইরের দোকান থেকে কিছু কিনে না খেয়ে ওই টাকা স্যারকে জমা দেই। আজ আমি একসাথে ১০ হাজার ১০৫ টাকা পেলাম। আমার খুব আনন্দ লাগছে। ওই স্কুলের শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, তাদের ক্লাস নেয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী বলে-স্যার পেট ব্যথা করছে। সকালে পাতলা পায়খানা হয়েছে। ভাল লাগছে না। পড়া হয়নি। বিষয়টি আমাকে চিন্তায় ফেলে। অনেক চিন্তা করে দেখি তারা স্কুলের বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার জন্যই এই সমস্যা হচ্ছে।

 তাদের বাইরের খাবার বন্ধ করলে আর এ সমস্যা থাকবে না। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলাপ করার পর সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিই বাড়ি থেকে আনা শিক্ষার্থীদের টাকা আমরা স্কুলে জমা রাখব। স্কুল ম্যানেজিং কমিটিও আমাদের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের টাকা জমা নিলে তারা আর বাইরের খাবার খেতে পারবে না। সেই সাথে তাদের মাঝে সঞ্চয়ী মনোভাব গড়ে উঠবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুর আজম বলেন, সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমানের পরামর্শে আমরা পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমানো শুরু করি। আমাদের বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই দরিদ্র। তারা সবাই কম বেশি টাকা জমা করে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিন্নাজ আলী বলেন, শিক্ষকদের আন্তরিকতায় এটা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় আমাদের ঈর্ষণীয় সাফল্য রয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জমা করে বছর শেষে একসাথে ফেরত দেয়া একটি অনন্য উদ্যোগ বলে আমি মনে করি।