জনগণকে লড়াই করে ভোট দেওয়ার আহ্বান মওদুদের

জনগণকে লড়াই করে ভোট দেওয়ার আহ্বান মওদুদের

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের মানুষ প্রায় ১২ বছর ধরে গণতন্ত্রের অধিকার হারা। তাই এবারই সুযোগ সেই অধিকার ফিরিয়ে আনার। সেজন্য সব বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে, লড়াই করে হলেও জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে বুঝতে হবে এবারই ভোট দেওয়ার শেষ সুযোগ, আপনারা আর সুযোগ পাবেননা। তাই ভোট দেওয়ার সময় কেউ যদি বাধা দেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজনে তাকেও ভোট দিতে বাধা দিতে হবে। ‘আমার ভোট আমি দেবো, লড়াই করে দেবো' এই সেøাগানে এগিয়ে যেতে হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মওদুদ বলেন, গণতন্ত্রের অধিকার হারানোটা দেশের মানুষের জন্য দুঃখজনক বিষয়। গত দুই থেকে আড়াই বছর ধরে বিএনপি কোনো প্রকার সংঘাতের পথে না গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে গেছে এবং এখনো শান্তিপূর্ণ অবস্থানে আছে।

 আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, আবাধ ও নিরপেক্ষ হলে ধানের শীষের জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে। এসময় জনগণের প্রতি বর্তমান সরকারের আস্থা নেই উল্লেখ করে সিনিয়র এ নেতা বলেন, তারা (আ’লীগ) আঁট-ঘাট বেধে রেখেও জনগণকে বিশ্বাস করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে আসতে চাইছে না। তাদের নিজেদের প্রতি আস্থা নেই, তারা জনগণকে বিশ্বাস করেনা। মানুষ তাদের ভোট দেবে, এ কথাটা তারা বিশ্বাস করতে চায় না। সে কারণে  তারা এখন গ্রেফতার ও হুমকি চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের দিন যারা এজেন্ট হবেন, তাদের এলাকায় না থাকতে বলা হচ্ছে। নতুবা নির্বাচনের আগেই তাদের গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে নির্বাচনের আগে আর ছাড়া হবে না। সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের কাছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে, তার একটি দাবিও মেনে নেননি তারা। এ সরকার পরাজয়ের ভয় পায়। গোয়েন্দা সংস্থায় তাদের নিজেদের লোক দিয়ে করানো রিপোর্টও তাদের বিপক্ষে।

 সেখানে একটি রিপোর্টও আসেনি, যেখানে দেখা গেছে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করবে। তাই তারা এখন মরিয়া হয়ে আছে। এমন একটি দলীয় সরকার অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার পক্ষ তারা সবাই এক হিসেবে কাজ করছে। এ কারণে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পরিবর্তন/বদলি করা হয়নি। কেননা তারা এ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেই মনে করছেন তারা। এছাড়া নির্বাচনী তাফসিল ঘোষণার পরও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার ও হামলা-মামলা বন্ধ হয়নি। প্রতিদিনই কোন না বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেফতার হচ্ছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন এমনটা হবেনা। সভায় এসময় নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের সভাপতি এ কে এম মোজাম্মেল হোসেন, নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।