ছুটির দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পরা ভিড়

ছুটির দিনে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পরা ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার : ঈদের তিন দিন ছুটি শেষে গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্র গুলোতে ছিল প্রচন্ড ভিড়। সকাল থেকেই নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছেন নানা বয়সী মানুষ। শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, সিনেমাহলগুলো ছাড়াও মনোরম হাতিরঝিলে বেড়ানো আর আড্ডা হয়েছে জমজমাট। শিশু পার্কে সকালে তেমন ভিড় না থাকলেও দুপুরে মুখর হয়ে ওঠে শিশুদের আনাগোনায়। ‘টয় ট্রেন’, ‘ম্যাজিক নৌকা’, ‘আনন্দ ঘূর্ণি, ‘ঝুলানো চেয়ার, ‘ফুলদানি আমেজ’, ‘উড়ন্ত নভোযান’- রাইডগুলোতে চড়ার পর শিশুরা উঁকি দিচ্ছিল ‘নাইন-ডি সিনেমার বুথে’।শিশুপার্কের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান, এমনিতে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে শিশু পার্ক খোলা হলেও ঈদুল আজহা উপলক্ষে বুধবার থেকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। চার বছরের মেয়ে বিন্তীকে নিয়ে শিশু পার্কে আসা বনশ্রীর বাসিন্দা আবদুস সোবাহান বলেন, ‘আমি ওকে নিয়ে কোথাও যাই না সাধারণত। আজ সকাল থেকে বেড়াতে যেতে চাচ্ছিল। এখন এসে এ রাইডে চড়ব, ওখানে যাব, সেখানে যাব করছে। মেয়ের আনন্দই তো নিজের আনন্দ!’ ঈদ উপলক্ষে মিরপুর চিড়িয়াখানার গেইট দর্শনার্থীদের জন্য খুলছে সকাল ৯টায়। শুক্রবার সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষের ‘উপচেপড়া ভিড়’ দেখা গেছে বলে জানান চিড়িয়াখানার কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে দুই জোড়া আফ্রিকান সাদা সিংহ, এক জোড়া কালো ভাল্লুক আনা হয়েছে মিরপুর চিড়িয়াখানায়। এছাড়া চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি চারটি উট পাখি আর একজোড়া উট কিনেছে। অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৪০টি ইমু। আরো এসেছে শতাধিক লাভ বার্ড।

কিউরেটর বলেন, ‘নতুন এসব প্রাণীর খাঁচার সামনে নানা বয়সী মানুষের ভিড় ছিল সারা দিন। তাছাড়া চিড়িয়াখানার জাদুঘরটিতে শিশু-কিশোরদের ভিড় দেখা গেছে।’ ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর এবং স্বাধীনতা জাদুঘরে চলছে বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। জাতীয় জাদুঘরে দেখানো হচ্ছে অ্যাকশন-ফ্যান্টাসি ‘মাঙ্কি কিং’ ও ‘মনস্টার হান্ট’। স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হলোস-পার্ট টু’ ও ‘জঙ্গল বুক’ সিনেমা দুটি। যমুনা ফিউচার পার্কের কার্নিভাল আর ফিউচার ওয়ার্ল্ডে ভিড় ছিল ঈদের দিনেও। শুক্রবারও কার্নিভালের রাইডগুলোতে ভিড় আরও বেড়েছে জানিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের বিপণন কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান বলেন, ‘শিশুদের জন্য ফিউচার ওয়ার্ল্ডে ছিল নানা আয়োজন। সেখানেও শিশুদের বেশ ভিড় ছিল।’ ঈদের দিন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হয় চন্দ্র্রর নন্দন পার্ক। সকাল থেকেই ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও ড্রাই পার্কের বিভিন্ন রাইডে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই ছিল বেশি। নন্দন পার্কের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা জুবায়েদ আল হাফিজ বলেন, ঈদ উপলক্ষে পার্কে এবার ষাটোর্ধ্ব দর্শনার্থীদের টিকেটে ৩৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছেন তারা। এছাড়া দম্পতিদের জন্য রয়েছে লটারি। তাতে পুরস্কার হল পশ্চিমবঙ্গ সফরের টিকেট আর তিন রাত দুই দিনের হোটেল সুবিধা। শিশুদের জন্য রচনা লেখার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করে নন্দন পার্ক কর্তৃপক্ষ।

 পরিবারের সঙ্গে কাটানো ঈদের স্মৃতি নিয়ে শিশুদের সেসব লেখা পার্কে প্রদর্শন করা হয়। সেরা লেখার জন্য রয়েছে গিফট হ্যাম্পার। ঈদ সামনে রেখে প্রযোজনা সংস্থাগুলো নতুন সিনেমা মুক্তি দিলেও এবার তেমন দর্শক পায়নি ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলো। এবার ঈদে মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা। দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলছে শাকিব খান-বুবলি জুটির ‘ক্যাপ্টেন খান’,  সাইমন-মাহিয়া মাহির ‘জান্নাত’,  মাহিয়া মাহি-বনির ‘মনে রেখ’, রোশান-ববির ‘বেপরোয়া’ আর  সিয়াম-পূজার ‘পোড়ামন-২’। জাজ মাল্টিমিডিয়া প্রযোজিত ‘পোড়ামন-২’ মুক্তি পেয়েছে বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে। তবে এ সিনেমার টিকেটের জন্য ‘তেমন ভিড় নেই’ বলে জানান সিনেপ্লেক্সের কাউন্টারে থাকা কর্মকর্তা মো. রুমি। তবে সিনেপ্লেক্সে ইংরেজি সিনেমাগুলো ভালো চলছে বলে জানান তিনি। সিনেপ্লেক্সে থ্রি-ডি সিনেমা মিশন ইম্পসিবল ফল আউট‘ দেখতে আসা রুমানা মিশকাত বলেন, ‘ঈদের পর বেড়ানো মানে বড় পর্দায় একটা সিনেমা দেখা। সময়টা সুন্দর কাটে।’ নীলক্ষেতের বলাকা সিনেমা হলে চলছে মাহিয়া মাহি-বনি অভিনীত ‘মনে রেখ’। হলের সুপারভাইজার মো. হানিফ শিকদার বললেন, দর্শক সংখ্যা তাদের প্রত্যাশার চেয়ে ‘অনেক কম’। বৃহস্পতিবার দুপুরের শোতে হলের এক তৃতীয়াংশ আসনও ভরেনি। যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টারস সিনেমাসে মুক্তি পেয়েছে ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও ‘মনে রেখো’ সিনেমা দুটি। সেখানেও ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্রের চেয়ে নতুন দুটি ঢাকাই সিনেমার দর্শক কম বলে জানালেন প্রেক্ষাগৃহের কর্মকর্তা সারোয়ার।


চিড়িয়াখানায় প্রবেশে দীর্ঘ অপেক্ষা
কোরবানীর ঈদের আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততা শেষে উৎসবে মেতেছে সবাই। ঈদের তৃতীয় দিন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রমুখী নগরীর মানুষজন। রাজধানীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় এদিন ছিলো দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। শুক্রবার চিড়িয়াখানার প্রবেশপথেই বেশ ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা গড়িয়ে বিকেল পড়ে এলেও চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেল চারটার পরও টিকিট কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে সাইফুল। তিনি বলেন, ঈদ ঘোরাঘুরির অন্যতম উপলক্ষ্য। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি, সময় যতটুকুই আছে তার মধ্যেই যা দেখা যায়। নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় দূর থেকেও অনেক দর্শনার্থীরা এসেছেন। মোশারফ নামের একজন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ডেমরা থেকে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তিনি বলেন, অন্যান্য দিন ইচ্ছে থাকলেও এতো দূর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। ঈদের মধ্যে রাস্তা ফাঁকা তাই সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এলাম। এদিকে, চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রায় সব পশু-পাখির খাঁচার সামনেই ভিড় লক্ষ্যণীয়। শিশু কিশোরদের মধ্যেই এ নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। বানরের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া উচ্ছাসিত রাইয়ান জানায়, বাবার সঙ্গে চিড়িয়াখানা দেখতে এসেছে। তার দেখা পশু-পাখির মধ্যে বাঘ-সিংহ সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
বিভিন্ন খাঁচার সামনে ব্যাপক জনসমাগম হওয়ায় তা সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন দায়িত্বরত কর্মীরা। অনেকেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাঘ-সিংহসহ বিভিন্ন হিংস্র প্রাণীর খাঁচা ঘেষে মোবাইলে ছবি তুলতে দেখা গেছে। মাইকে বার বার নিষেধাজ্ঞা স্বত্ত্বেও অনেকেই তা মানছেন না। দায়িত্বরত কর্মীরা একদিক দিয়ে এসে নিষেধ করলে আরেকদিকে একই ভুল কাজ করছিলেন উৎসুক দর্শনার্থীরা।