* রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে ছিনতাই

ছিনতাইকালে গাড়ি চাপায় নারী আরেকজনকে কুপিয়ে হত্যা

ছিনতাইকালে গাড়ি চাপায় নারী আরেকজনকে কুপিয়ে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীতে হঠাৎ বেড়ে গেছে ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য। গতকাল শুক্রবার একদিনেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন হেলেনা বেগম (৪৫) নামে বেসরকারি হাসপাতালের এক আয়া ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। এর আগে গত বছর ডিসেম্বরে দয়াগঞ্জে এক ছিনতাইকারী টান দিয়ে রিকশাআরোহী এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তার কোল থেকে পড়ে তার পাঁচ মাসের ছেলের মৃত্যু হয়।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে পথচারী হেলেনার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় ছিনতাইকারীরা তার শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান ওই নারী। নিহত হেলেনা বেগম গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আয়া ছিলেন। হাসপাতালের পাশের একটি বাসায় থাকতেন তিনি। তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রয়েছে। হাসপাতালে নিহতের স্বামী মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হেলেনা বেগম তার সঙ্গে বরিশাল থেকে লঞ্চে করে ভোরে ঢাকা পৌঁছান। ধানমন্ডি ৭ নম্বরে বাস থেকে নেমে সড়ক পার হতে গেলে সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে দুর্বৃত্তরা হেলেনার হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। এতে হেলেনা গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। ছিনতাইকারীরা তার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে চলে যায়।

 এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, ‘আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়ি ও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।’ এদিকে শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর ওয়ারীর স্বামীবাগ রেললাইনের পাশের গলিতে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামে এক ব্যবসায়ী আহত হন। রক্তাক্ত শরীর নিয়ে ওই অবস্থায়ই দৌড়ে তিনি সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতালে যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানালে ভোর ৪টার দিকে তাকে সেখান থেকে পুলিশের গাড়িতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসক ইব্রাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়ারি থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ইব্রাহিমের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার শেখপাড়ায়। তার বাবার নাম বজলুর রহমান। তিনি ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। ৩-৪ দিন আগে তিনি ঢাকায় আসেন। নবাবপুর একটি হোটেলে উঠেছিলেন।

 শুক্রবার ভোরে স্বামীবাগ এলাকায় ৪/৫ জন ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এরপর তিনি দৌড়ে সালাউদ্দিন হাসপাতালের সামনে আসেন। ওই হাসপাতালে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম জানান, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

 নিহতের ভাগ্নে আল আমিন বলেন, ‘ওয়ার্কশপের জিনিসপত্র কিনতে মামা ৩/৪ দিন আগে ঢাকায় আসেন। গতকাল শুক্রবার ভোরে সালাউদ্দিন হাসপাতাল থেকে ফোন দিয়ে জানায় মামাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। ভোরে খুলনা থেকে ঢাকা পৌঁছে দেখি মামা মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘মামা পুরান ঢাকার বিভিন্ন হার্ডওয়ারের দোকানে গিয়ে মাল কেনেন। শুনছি, মামার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিল। ছিনতাইকারীরা তা নিতে পারেনি।’ নিহতের স্ত্রীর নাম রোকাইয়া। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে রয়েছে।