ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের ৭ বছরে সচিবালয়ের বারান্দায় দেখিনি: কাদের

ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের ৭ বছরে সচিবালয়ের বারান্দায় দেখিনি: কাদের

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস: বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, সংস্কার করবো না? ধরিয়ে দিন কোথায় সরকার সমর্থকরা আছে। এই সচিবালয়ে আমি সাত বছর ধরে এই মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছি। আমার কোনো যুবলীগের কর্মী, ছাত্রলীগের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সচিবালয়ের বারান্দায় কখনো দেখিনি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কাজের জন্য আমাদের কর্মীরা আসে না। কিন্তু বিএনপির আমলে তাদের নেতাকর্মীদের জন্য সড়কে, স্থানীয় সরকারে বারান্দা দিয়ে প্রবেশ করা যেত না। আর এখন আসে? এখন আসে না। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর এমন অভিযোগ জনগণ গ্রহণ করবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা একটা নিয়মে চলি। আমাদের অনেক নেতাকর্মীরা অভাবে আছে, তাদের কোন সুবিধা দিতে পারছি না। তারপরও এই অপবাদ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দিলে কেউ গ্রহণ করবে না। এটা বিএনপিরই প্যাকটিস তাদেরই অভ্যাস। এবং আবারো বিএনপি এসব করার জন্য ক্ষমতায় যেতে চায়। সরকার বাধা না দিলে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে এক সপ্তাহে বের করা হবে বলে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে বের করবে? করুক। জনগণ তো তাদের ডাকে মাঠে নামে না। নয় বছরে পারে না, এখন এক সপ্তাহে পারবে। এখন আর মানুষ আন্দোলনের দিকে নেই, সবাই নির্বাচনমুখি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়ার পর লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামবে এমনটাই তারা ভাবছিল। আমরাও ভেবেছিলাম। এত বড় নেত্রী, এত বড় দল। সাগরের ওয়েব তো দুরে থাক নদীর ছোট্ট একটা রিপলও দেখলাম না। সাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা সেটা তো বহু দূর, সেই সাহসও তাদের নেই।

বাম রাজনৈতিক দলের কয়েকজনকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকেই সুন্দর সুন্দর কথা বলে, পরামর্শ দেয়। তারা বলে, বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ সরকার নিয়েছে কি না। বিএনপি না এলে তারাও নির্বাচনে যাবে না। আপনিও না এলেও গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অভ্যাহত থাকবে। নির্বাচনের ট্রেন কারো জন্য থেমে থাকবে না। নির্বাচনে না গেলে না যান, সংবিধান অনুযায়ি নির্বাচন হবে। বিএনপির সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চায় জাতীয়তাবাদী বিচার বিভাগ, তারা চায় জেতার নিশ্চয়তা দিবে এমন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে হরলে বলে মানি না মানব না।

এখন তারা মানি না মানবো না দলে পরিণত হয়ে গেছে। সভায় সভপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যন ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, এই দিনটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে না ফিরলে এ দেশের জনগণের হাতে ক্ষমতায়ন হতো না। তাই এই দিবসকে জনগণের ক্ষমতায়ন দিবসে হিসেবে ঘোষনা চাই। যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাট বক্তব্য রাখেন।