চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ টানা ছয় বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছয় শতাংশের ওপরে রাখতে পেরেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে এ ধরনের দ্রুত প্রবৃদ্ধি কম দেশেরই রয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা অপুষ্টি হ্রাস, শিশু-কিশোরদের বিদ্যালয়ে প্রেরণ এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০১৬ সালেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা হ্রাস করার সূচকও ২০০৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হবে বাংলাদেশ। এ জন্য একটি শর্ত হচ্ছে, যে তিনটি সূচকের কারণে এই অর্জন, তা আগামী কয়েক বছর অব্যাহত রাখা। তবে এটা মনে রাখতে হবে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হতে বাংলাদেশকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এলডিসি হিসেবে পাওয়া ইউরোপের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা কমে যাবে।

কম সুদে বিদেশি ঋণ পাওয়া কঠিন হবে। তাই অর্থের জোগান দিতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সম্পদ আহরণ বাড়াতে হবে। ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করে, বিনিয়োগ আনতে হবে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গতিশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাফল্য ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে সবকিছু ভালোভাবে করতে হলে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশে নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের যে গতি সূচিত হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে সেটি মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। আমরা চাই, বাংলাদেশ একই গতিতে এগিয়ে যাক।