চীনে গোপন কূটনৈতিক সফর করছেন কিম?

চীনে গোপন কূটনৈতিক সফর করছেন কিম?

করতোয়া ডেস্ক : চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দেশটিতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পরিবারের একটি ট্রেনের উপস্থিতিও দেখা গেছে। পিয়ংইয়ং-এর একজন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিও সেখানে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কিম আলোচনার জন্য বেইজিংয়ে এসেছেন।যদি খবর সত্যি হয় তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে কিম চীন সফর করছেন।  ২০১১ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কিমের প্রথম বিদেশ সফর হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া বলছে, তারা বেইজিংয়ে আসা কর্মকর্তাদের জানে না, তবে বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে নজরদারিতে রেখেছে। এ ব্যাপারে চীন বা উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।  তবে এমন একটি সফরকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সিএনএন এক খবরে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় একটি পুরানো আমলের সবুজ ট্রেন বেইজিংয়ে ঘুরতে থাকে। এতেই ধারণা করা হয়, উত্তর কোরিয়ার নেতা বা পিয়ংইয়ং থেকে অন্য উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি চীনের রাজধানীতে এসেছেন। উত্তর কোরিয়ার নেতা বিদেশ ভ্রমণে যে ধরণের যানবাহন ব্যবহার করেন চীনে আসা ট্রেনটি সেই প্রতীক বহন করছে বলেও খবরে বলা হচ্ছে।খবরে আরও বলা হয়েছে, চীনের ডায়োয়াতাই রাজ্যের অতিথি ভবনে (যেখানে উত্তর কোরিয়ার নেতারা পূর্বে অবস্থান করেছিলেন) ব্যাপক নিরাপত্তা দেখা গেছে। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছানোর পর পরই সিএনএনের একজন সাংবাদিককে দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ।

এই গেস্ট হাউজটি আগে জর্জ ডব্লিউ বুশ যুগের ছয় পক্ষের আলোচনার একটি স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যা শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার ব্যাপারে সম্মত করতে ব্যর্থ হয়।গতকাল সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার একজন কর্মকর্তা দেশে এসে পৌঁছেছে কিনা সে সম্পর্কে তারা অবগত নন। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির মার্কিন- কোরিয়া ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক কার্টিস মেলভিন বলেন, ‘খবরটি আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছিল।’
মেলভিন এক মেইল বার্তায় সিএনএনকে বলেন, আমি যতদূর জানি, কিম জং উনকে নিয়ে এই ট্রেন চীন ভ্রমণ করেনি।উত্তর কোরিয়ার সবুজ এবং হলুদ রঙয়ের একটি বিশেষ ট্রেনের বেইজিং যাত্রা ঘিরে ব্যাপক রহস্য দেখা দিয়েছে।

এই বিশেষ ট্রেনের বেইজিং যাত্রার সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়; যা দেখে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিশেষ এই ট্রেনে চেপে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চীন সফরে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিমের চীন সফর ঘিরে যে রহস্য শুরু হয়েছে  তা যদি সত্যি হয়; তাহলে ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসার পর দেশের বাইরে এটিই হবে তার প্রথম সফর। এমনকি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্র নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে কিছুদিন আগে রাজি হয়েছে কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন কোরীয় উপদ্বীপের এ দেশটি। সেই বৈঠকের আগে কিম জং উনের বেইজিংয়ে রহস্যময় সফর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে; রীতিমতো শোরগোল শুরু হয়েছে বিশ্ব পরিমণ্ডলে। জাপানের টেলিভিশন চ্যানেল নিপ্পন টিভির একটি ভিডিও ফুটেজে বলা হয়েছে, হলুদ ফিতায় ঘেরা সবুজ রঙয়ের বিশেষ এ ট্রেনের সঙ্গে মিল রয়েছে কিম জং উনের বাবা কিম জং ইলের ২০১১ সালে বেইজিং সফরে ব্যবহৃত ট্রেনের সঙ্গে।